কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি :
তারিখ: ৭ নভেম্বর ২০২৬
একটু বিশুদ্ধ পানির অভাবে যে কোমলমতি শিশুদের প্রতিদিন অকথ্য দুর্ভোগ পোহাতে হতো, তাদের মুখে এবার স্বস্তির ও আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে। তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবতার এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ঝিনাইদহের মহেশপুরের স্বনামধন্য সামাজিক সংগঠন ‘সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থা’। উপজেলার ৪ নম্বর স্বরূপপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত কুশাডাঙ্গা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের তীব্র সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে একটি আধুনিক নলকূপ স্থাপন করে দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত এই মানবিক সংগঠনটি।
সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনাড়ম্বর অথচ প্রাণবন্ত আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবস্থাপিত নলকূপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান। দাতা সংস্থার এমন মহৎ ও সময়োপযোগী উদ্যোগে বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকসহ পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে এক অভূতপূর্ব আনন্দ ও স্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. সাব্বির হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুশাডাঙ্গা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীন আলম, সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক শামীমা শারমিন স্নিগ্ধা। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার অন্যতম সদস্য শামীম সরোয়ার ভুটার, আজীবন সদস্য শামিনূর রহমান, বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থীগণের অভিভাবকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সমাজসেবা কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থার এই সুগভীর মমত্ববোধ ও ভালোবাসার প্রকাশ সত্যিই অত্যন্ত অনুকরণীয়। রাষ্ট্রের একক প্রচেষ্টার পাশাপাশি নিবন্ধিত বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো যখন এভাবে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে আসে, তখন সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়। সুপেয় পানির সুব্যবস্থা করে সংস্থাটি শুধু শিশুদের তৃষ্ণাই মেটায়নি, প্রকৃত সমাজসেবার এক বিরল ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”
সভাপতির বক্তব্যে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. সাব্বির হোসেন বলেন, “সমাজের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের পাশে নিঃস্বার্থভাবে দাঁড়ানোই আমাদের সংগঠনের মূল দর্শন ও ব্রত। এই নিষ্পাপ শিশুদের বিশুদ্ধ পানির তীব্র কষ্ট আমাদের প্রতিনিয়ত ব্যথিত করত। তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং দৈনন্দিন পানির প্রয়োজন মেটাতে আমাদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্য দিয়েই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। মানুষের মুখে সুখানুভূতির হাসি ফোটানোর চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি বা আনন্দ আর হতে পারে না। ভবিষ্যতেও এ অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের যেকোনো সামাজিক ও মানবিক সংকটে সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থা সবসময় বিশ্বস্ততার সাথে পাশে থাকবে।”
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির পর্যাপ্ত ও নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। বিশেষ করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোমলমতি শিশুদের জন্য এই বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিল একটি তীব্র বাড়তি দুর্ভোগের কারণ। নতুন নলকূপ স্থাপনের ফলে সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকট অনেকটাই চিরতরে দূর হলো।
সচেতন মহলের অভিমত, একটি নলকূপ হয়তো প্রকৌশলগত দিক থেকে বিশাল কোনো অবকাঠামোগত স্থাপনা নয়, কিন্তু এর সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে শত শত শিশুর সুস্বাস্থ্য, স্বস্তি ও নিরাপদে বেড়ে ওঠার অদম্য প্রত্যাশা। প্রত্যন্ত জনপদের এই বিশেষ শিশুদের না বলা প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থার এই মানবিক উদ্যোগ আবারও আমাদের মনে করিয়ে দিল—মানবসেবার প্রকৃত মহত্ত্ব বড় কোনো আয়োজন কিংবা প্রচার-প্রচারণায় নিহিত নয়, বরং মানুষের চরম প্রয়োজনের মুহূর্তে পাশে এসে দাঁড়ানোর মাঝেই তার সার্থকতা নিহিত। ছবি সংগৃহীত।

