কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি :
তারিখ: ৬ নভেম্বর ২০২৬
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অভাবনীয় ও গর্বের মুহূর্ত নিয়ে জাতীয় টেলিভিশনের পর্দায় আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে স্থানীয় শিল্পীদের একটি দল। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ‘এটিএন বাংলা’ (ATN Bangla)-এর নিয়মিত নৃত্যানুষ্ঠান ‘ছন্দে আনন্দে’-এর বিশেষ পর্বে অংশ নিয়েছেন কোটচাঁদপুরের স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নৃত্যকানন একাডেমি’-এর চৌকস ১৪ জন নৃত্যশিল্পী। মফস্বল শহর থেকে জাতীয় পর্যায়ে স্থানীয় প্রতিভার এমন পদচারণা গোটা অঞ্চলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে।
গত ৪ নভেম্বর ২০২৬, বুধবার, রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)-এর ৮ নম্বর ফ্লোরে অনুষ্ঠানটির জমজমাট শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। সুনির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে খুব দ্রুতই নৃত্যশিল্পীদের এই নান্দনিক ও আকর্ষণীয় পরিবেশনা এটিএন বাংলার পর্দায় সম্প্রচারিত হবে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
জাতীয় গণমাধ্যমে এই বড় প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ায় নৃত্যকানন একাডেমির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী, স্বনামধন্য লোকগবেষক ও শিক্ষক কামরুল হাসান ফেরদৌসের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে। তাঁর সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতাতেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আয়োজকরা।
পুরো আয়োজনের নৃত্য পরিচালনা এবং সামগ্রিক পরিবেশনার নিখুঁত প্রস্তুতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন নৃত্যকানন একাডেমির দক্ষ প্রশিক্ষক সবুজ হোসেন। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ার সুচারু বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সিমরান হোসাইন।
কোটচাঁদপুরের মতো একটি মফস্বল জনপদ থেকে এত বিপুলসংখ্যক (১৪ জন) নৃত্যশিল্পীর একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের নিয়মিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নিঃসন্দেহে স্থানীয় সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক ও গৌরবের বিষয়। এই অর্জন কেবল অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের আত্মবিশ্বাসই বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে না, বরং এলাকার উদীয়মান ও তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদেরও নিয়মিত নৃত্যচর্চায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে বলে বিশ্বাস করেন সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনরা।
শেকড়ের নিজস্ব সংস্কৃতি, সৃজনশীল মনন এবং ক্লাসিক্যাল নৃত্যের নান্দনিক ছন্দকে সঙ্গী করে নৃত্যকানন একাডেমির এই ব্যতিক্রমী যাত্রা কোটচাঁদপুরের সাংস্কৃতিক পরিচিতিকে জাতীয় সীমানায় এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিল। এখন শুধু অপেক্ষা—টেলিভিশনের পর্দায় প্রিয় শহরের এই কৃতি শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপভোগ করার। ছবি সংগৃহীত।
