আদালত ভবনে পুলিশকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে দ্বিতীয়তলা থেকে লাফিয়ে আসামি চম্পট!

আদালত ভবনে পুলিশকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে দ্বিতীয়তলা থেকে লাফিয়ে আসামি চম্পট!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

সিরাজগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে এক চুরি মামলার আসামি পালিয়ে যাওয়ার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ২য় তলার হাজতখানার মূল ফটকে ঘটনাটি ঘটে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পলাতক আসামির নাম আব্দুল মোমিন (২২)। তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের কোবদাসপাড়া এলাকার অধিবাসী আব্দুস সবুরের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি চুরি মামলা (জিআর নম্বর: ২২৪/২৬) বিচারপ্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোর্ট পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা কারাগার থেকে নিয়মিত হাজিরা ও শুনানির উদ্দেশ্যে আসামি মোমিনকে এনে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত হাজতখানায় সাময়িকভাবে রাখা হয়। দুপুর ১২টার দিকে হাজতখানার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা অন্য এক নারী ও পুরুষ আসামির হাতকড়া খোলার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এ সুযোগে চতুর আসামি মোমিন গেটে পাহারায় থাকা কনস্টেবল গোলাপ, আবুল এবং তাহেরুল ইসলামকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে পলায়নের চেষ্টা করেন। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা সামলে ওঠার আগেই তিনি নিমেষের মধ্যে ২য় তলার উন্মুক্ত বারান্দা থেকে নিচে লাফ দিয়ে দ্রুত চত্বর পার হয়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার আকস্মিকতায় আদালত পাড়ায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হলে সিরাজগঞ্জ সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একাধিক দল পলাতক মোমিনকে পুনরায় গ্রেফতার করতে শহরের সম্ভাব্য সবকটি গোপন আস্তানায় চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক রওশন ইয়াজদানী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামি পলায়নের ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না তা সুনির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বন্দি পলায়নের দায়ে পৃথক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

কোর্ট পুলিশের জেনারেল রেকর্ড অফিসার (জিআরও) জানান, বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে এজলাসে বিষয়টি জানার সাথে সাথে নিরাপত্তার জোরদার করা হয় এবং দ্রুততম সময়ে পলাতককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *