অষ্টম শ্রেণির ছাত্রকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নদীতে ফেলে হত্যা!

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নদীতে ফেলে হত্যা!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে তিন বছর আগে নিখোঁজ হওয়া অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. আশরাফুল ইসলামকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মো. রফিকুল ইসলামকে  শাহজাদপুরের জামিরতা বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি সিরাজগঞ্জের গাড়াদহ গ্রামের মৃত নুর হোসেন মোল্লার ছেলে এবং বর্তমানে জামিরতা এলাকার বাসিন্দা।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল আজ থেকে তিন বছর আগে, ২০২৩ সালের আগস্টে। ওইদিন সন্ধ্যার পর রফিকুল মোবাইলে ফোন করে আশরাফুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আশরাফুল আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে আশরাফুলের বাবা শাহজাদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরিবারের সদস্যরা রফিকুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। দীর্ঘদিন ছেলের কোনো হদিস না পেয়ে আশরাফুলের মা বিজ্ঞ আদালতে তিনজনকে আসামি করে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডি সিরাজগঞ্জ জেলা ইউনিটের ওপর ন্যস্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মামলাটি একটি সম্পূর্ণ ক্লু-লেস ঘটনা হওয়ায় দীর্ঘদিন তদন্ত করেও ভিকটিমের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হলে সিআইডির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় তদন্তে নতুন গতি যোগ হয়। আরজি বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয়ভাবে গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে ১ নম্বর আসামি রফিকুল ইসলামের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত পিটিশন মামলাটি শাহজাদপুর থানায় নিয়মিত এফআইআর হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে আসামি রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর কাহিনী। সিআইডিকে দেওয়া জবানবন্দিতে রফিকুল জানায়, আশরাফুলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ শারীরিক সম্পর্ক ছিল। তবে আশরাফুল তার অন্য বন্ধুদের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে জানতে পেরে রফিকুল চরম ক্ষুব্ধ হয় এবং তাকে হত্যার চক্রান্ত করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রফিকুল আশরাফুলকে ডেকে যমুনা নদীর পাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে যৌন উত্তেজক ওষুধের কথা বলে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়। আশরাফুল সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাকে যমুনা নদীর পানিতে ফেলে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে স্রোতে ভেসে যায়। আদালতে আসামি নিজ মুখে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, আসামি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্বেও একই ধরনের বিকৃত অপরাধে জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে। কয়েক বছর আগে এক যুবকের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার অপরাধে মামলা হলে বিচারে তার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল এবং সে সাজাও ভোগ করে। সিআইডি জানায়, নিহত আশরাফুলের মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। যমুনা নদীর ভাটি অঞ্চলের থানাগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং রেজিস্টার যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে অন্য কারও হাত আছে কি না এবং মরদেহ উদ্ধারে সিআইডির তদন্ত ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *