স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
বগুড়ায় যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাসে অভিযান চালিয়ে ২৬০০ পিস অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত বিপজ্জনক মাদক ইয়াবাসহ মো. জিম বাবু (২২) নামের এক বাসের হেলপারকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন পরিমাপ করা হয়েছে ২৬০ গ্রাম।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় বগুড়ার একটি চৌকস টিম গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুরগামী ‘শ্যামলী পরিবহন’ (রেজি. নং: ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৮১৪২) নামীয় একটি যাত্রীবাহী কোচের হেলপার নিজের হেফাজতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান নিয়ে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে ডিএনসির পরিদর্শক মো. সামসুল আলমের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল বগুড়া সদর থানাধীন নওদাপাড়াস্থ টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের সামনে ঢাকা-রংপুরগামী মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয়। সকাল আনুমানিক ১০:৩০ থেকে ১১:৩০ ঘটিকার মধ্যে কাঙ্ক্ষিত বাসটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সিগন্যাল দিয়ে থামানো হয়। পরবর্তীতে বাসের ভেতরের ইঞ্জিন কভারে বসে থাকা হেলপার মো. জিম বাবুর দেহ ও সঙ্গে থাকা স্কুল ব্যাগ তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে ব্যাগটির ভেতর থাকা পুরোনো কাপড়ের আড়ালে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে লুকানো এবং কালো স্কচটেপে মোড়ানো নীল রঙের ১৩টি জিপারযুক্ত পলি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট ২৬০০ পিস কমলা বর্ণের অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে ডিজিটাল কিচেন স্কেলে মেপে ২৬০ গ্রাম হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। এ সময় মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
গ্রেফতারকৃত আসামী মো. জিম বাবু রংপুর সিটির তাজহাট থানার ৩২ নং ওয়ার্ডভুক্ত ধর্মদাস মিলনপাড়া এলাকার মো. শামীম মিয়া ও মোছা. ঝুমা বেগমের ছেলে।
এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মো. তাহিদুল আলম বাদী হয়ে ২০১৮ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ক্রমিক ৯(গ) ও ২৬(১) ধারায় বগুড়া সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। ডিএনসি সূত্রে জানানো হয়েছে, কক্সবাজার থেকে আনা মাদকের এই বিশাল চালানের নেপথ্যে পরিবহন খাতের আর কারা জড়িত বা কারা এই চালানের অর্থায়ন ও বিপণনে যুক্ত ছিল, তা উদঘাটনে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনায় অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে দ্রুতই তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। ছবি সংগৃহীত।

