সৌদিতে উচ্চ বেতনের ড্রাইভিং ভিসার নামে ফাঁদ!

সৌদিতে উচ্চ বেতনের ড্রাইভিং ভিসার নামে ফাঁদ!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় আকর্ষণীয় বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত ও ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ রবিবার বিকেলে সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) ইউনিট রাজধানী ঢাকার বনানী থানাধীন সৈনিক ক্লাব এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ৩টি স্মার্টফোন এবং একাধিক রেজিস্টার বইসহ মানবপাচারের গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— বাগেরহাটের মো. শামীম (৪০), সুনামগঞ্জের মো. রুহুল আমিন (২৪), টাঙ্গাইলের মো. হৃদয় হাসান (২৬), গাজীপুরের আবু রায়হান (২৯) এবং ময়মনসিংহের মো. সানি মিয়া (২৫)। তারা সবাই মামলার এজাহারনামীয় অভিযুক্ত আসামি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিজ্ঞাপন দেখে প্রলুব্ধ হন, যেখানে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসিক ২,৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে চক্রটি তাকে বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকার একটি অফিসে ডেকে নেয় এবং ড্রাইভিং ভিসার বিনিময়ে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি করে। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে ব্যাংক ও নগদের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ড্রাইভিং ভিসা না দিয়ে তাকে একটি ট্যুরিস্ট ভিসা ধরিয়ে দেয় চক্রটি।

বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বনানী থানায় একটি মামলা (মামলা নং-৩১, তারিখ: ২৪/০৮/২০২৬, ধারা- মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ১৫/১৬/১৯/২০ সহ দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০) দায়ের করেন।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটি একইভাবে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আনুমানিক ১৯ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে। এরা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে আকর্ষণীয় পোস্ট দিয়ে সাধারণ মানুষের পাসপোর্ট জিম্মি রেখে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।

বর্তমানে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক সদস্য এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনার পর সিআইডির পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে এবং বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিক টাকা দাবি করলে বা পাসপোর্ট জিম্মি রাখলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *