রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহ শহরের মহিলা কলেজপাড়া এলাকার একটি শিক্ষার্থী মেসে বাজার করা নিয়ে সামান্য কথা-কাটাকাটির জেরে রুমমেটের ধারালো ছুরিকাঘাতে কাউসার আলী (২১) নামের এক কলেজছাত্র নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মেসের ভেতরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
নিহত কাউসার আলী ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ৭ম সেমিস্টারের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বৈঠাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এই বর্বরোচিত হত্যায় জড়িত অভিযুক্ত রুমমেট লিখনকে রক্তমাখা ছুরি সহ তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেছে ঝিনাইদহ থানা পুলিশ। আটক লিখন স্থানীয় বাড়িবাথান মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্র এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার শৈলমারী গ্রামের বাসিন্দা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ও মেস সূত্রে জানা যায়, শহরতলির মহিলা কলেজপাড়ার একটি ভাড়া মেসে একসঙ্গে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে আসছিলেন কাউসার ও লিখন। আজ সন্ধ্যার দিকে মেসে প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করা ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কাউসার আলী সহপাঠী লিখনকে একটি চড় মারেন। এতে তীব্র আক্রোশ ও মেজাজ হারিয়ে লিখন রুমে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে কাউসারের পিঠে সজোরে আঘাত করে।
এ সময় উভয়ের মধ্যে এলোপাথাড়ি হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটলে অভিযুক্ত লিখন নিজেও সামান্য আহত হয়। পরবর্তীতে আশপাশের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাঁদের গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কাউসার আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ সদর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) আসাদউজ্জামান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত ঘাতক লিখনকে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রেখে আটক করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ছবি সংগৃহীত।


