স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ক্যান্সার মানেই পরাজয় নয়—সচেতনতা, সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসাই জীবনযুদ্ধের জয়ের মূল শক্তি। এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ঝনঝনিয়া এলাকায় “আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার”-এর উদ্যোগে যাত্রা শুরু করল ‘ক্যান্সার স্ক্রিনিং অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট সার্ভিসেস’। সংস্থাটির এই সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে এক নতুন ও যুগান্তকারী দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
আয়োজিত বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এছাড়া উদ্বোধনী পর্বে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম, মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম, রামপাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুব্রত বিশ্বাসসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব হলে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই ব্যাধি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব। তাই গ্রামের সাধারণ মানুষকে সময়মতো পরীক্ষা ও সচেতনতার আওতায় আনতে এই সেন্টারটি বিরাট ভূমিকা পালন করবে।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে বাগেরহাট জেলা পুলিশের সদস্যদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন জটিল রোগ শনাক্ত করার লক্ষ্যে একটি সময়োপযোগী ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর সার্বিক সহায়তায় বাগেরহাট জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের প্রাথমিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং পরিচালনা করা হবে এবং প্রত্যেকের জন্য আলাদা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য প্রোফাইল প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রশাসন ও পুলিশের সুধীজনরা মনে করছেন, এই উদ্যোগটি নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণ, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ঘাতক ব্যধির পূর্বলক্ষণ শনাক্তকরণ এবং তাঁদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ও মাইলফলক পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। ছবি সংগৃহীত।

