স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় এক নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে চরম বিশৃঙ্খলা, ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ, প্রসূতি অস্ত্রোপচারের সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের চরম অসাবধানতা ও চরম অবহেলায় ধারালো সরঞ্জামের আঘাতে শিশুর মাথা, ঠোঁট এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে কেটে যাওয়ার কারণেই এই অঘটন ঘটেছে। তাঁরা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, যশোর সদর উপজেলার রায়মানিক কচুয়া গ্রামের অধিবাসী সাগর হাসানের স্ত্রী তাসমিরা খাতুনকে প্রসূতিজনিত কারণে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে কর্তব্যরত চিকিৎসকের নির্দেশে তাঁকে দ্রুত লেবার ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সকাল ১০টার দিকে গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আয়েশা আক্তারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথম সন্তানের মুখ দেখার প্রহর গুনছিলেন স্বজনেরা। কিন্তু তাঁদের সেই আনন্দঘন মুহূর্ত মুহূর্তের মধ্যেই এক দুঃসহ শোক ও কান্নায় রূপ নেয়।
বিজ্ঞাপন
অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা স্বজনদের জানান যে তাঁদের একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, তবে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। পরিবারের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ নবজাতকটিকে দেখার জন্য আকুল আকুতি জানালেও লেবার ওয়ার্ডের দায়িত্বরত স্টাফ ও নার্সরা তাঁদের ভেতরে ঢুকতে বাধা প্রদান করেন। এতে সন্দেহ ঘনীভূত হলে স্বজনেরা জোরপূর্বক লেবার ওয়ার্ডে প্রবেশ করে জানতে পারেন যে তাঁদের শিশুটি আর বেঁচে নেই।
পরবর্তীতে স্বজনেরা নিথর শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে দেখতে পান তার মাথা, মুখের ঠোঁট ও শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর কাটার ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অপারেশনে নিয়োজিত চিকিৎসকদের কাছে কৈফিয়ত চাইতে গেলে তারা কোনো প্রশ্নের তোয়াক্কা না করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। স্বজনদের অভিযোগ, অভিজ্ঞতাহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে সিজারের সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শিশুটির মৃত্যু ঘটিয়ে এখন ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে ঘটনাটির সম্পূর্ণ দায় অস্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব বক্তব্য প্রদান করেছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আহসান কবির বাপ্পী জানান, স্বজনেরা যে ধরনের ক্ষতচিহ্নের কথা বলছেন তা সিজারের সময় কাটার কারণে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, গর্ভাশয়ে থাকাকালীন বা সিজারের আগেই অন্য কোনো জটিলতায় শিশুটির মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে। তবে তিনি যোগ করেন, ভুক্তভোগী পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্তে চিকিৎসক, নার্স বা অন্য কারো অবহেলা প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।

