স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
পারিবারিক পরিবেশে মানসিক চিকিৎসা চলাকালীন আকস্মিক এক হিংস্র তাণ্ডবে মায়ের জীবনের প্রদীপ নিভিয়ে দিল নিজ কন্যা। ফেনী জেলার দাগনভূঞাঁ উপজেলায় বঁটির নির্মম কোপে সেতারা বেগম (৭৫) নামের এক প্রবীণা নারী খুন হয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়েকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাতে ফেনীর দাগনভূঞাঁ উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর গ্রামে এই রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক ঘটনাটি সংঘটিত হয়। নিহত বৃদ্ধা সেতারা বেগম ওই এলাকার মরহুম হোসেন আহমেদের সহধর্মিণী ছিলেন। অন্যদিকে আটককৃত কন্যার নাম রিনা আক্তার রানু (৩৭)।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত কিছু দিন যাবত অভিযুক্ত রিনা আক্তার রানুর আচরণে চরম মানসিক অস্থিতিশীলতা ও অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। এমনকি সম্প্রতি তিনি নিজ স্বামীকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছিলেন। পারিবারিক ওই সহিংসতার পর মানসিক ভারসাম্যহীনতার অবনতি ঘটলে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে তাকে বাপের বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনরা। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে তার মানসিক চিকিৎসা চলছিল।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার দিন গভীর রাতে আকস্মিক চরম উত্তেজনা ও ক্ষিপ্ত আচরণ শুরু করেন রানু। তিনি কৌশলে ঘরের অন্যান্য সদস্যদের একটি বন্ধ কামরায় অবরুদ্ধ করে ফেলেন। এরপর ঘরে থাকা ধারালো বঁটি হাতে নিয়ে নিজের ৭৫ বছর বয়সি বৃদ্ধা মা সেতারা বেগমকে উপর্যুপরি কোপাতে শুরু করেন। ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে ঘটনাস্থলেই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়।
ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘটনার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি অভিযুক্ত কন্যা রিনা আক্তার রানুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য তা ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে আটক নারী মানসিকভাবে অসুস্থ বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
