স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ফেনীর দাগনভূঞায় রাতের আঁধারে স্বামীকে অটোরিকশার গ্যারেজে আটকে রেখে স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অপচেষ্টার অভিযোগে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত এজাহারনামীয় ছয় বখাটে যুবককে গ্রেফতার করেছে দাগনভূঞা থানা পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে অপহরণ ও শ্লীলতাহানিসহ ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ এনে দাগনভূঞা থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দা মো. মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া চট্টগ্রাম থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে নিজ গ্রামে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ফেনীর দাগনভূঞা পৌর এলাকার ফাজিলের ঘাট রোড সংলগ্ন জুয়েলের গ্যারেজে গাড়িটি চার্জ দেওয়ার জন্য তারা থামেন। এ সময় স্থানীয় একদল বখাটে যুবক অটোরিকশার চার্জ শেষ হওয়ার সুযোগ নিয়ে দম্পতিকে চারপাশ থেকে ঘেরাও করে ফেলে এবং ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানি শুরু করে।
একপর্যায়ে জোরপূর্বক তাদেরকে জগতপুরের ফাতেমা মঞ্জিলের বিপরীতের ‘পরেশ স্টোরে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামী মাসুদকে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে বখাটেরা স্ত্রীকে পাশের আবুল কালামের এক নির্জন নির্মাণাধীন ভবনে তুলে নিয়ে যায় এবং শারীরিক নিপীড়ন করে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
ঘটনার আকস্মিকতায় এক অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে একটি রিং বেজে উঠলে বখাটেটি সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ায়। এই সুযোগে ভুক্তভোগী নারী প্রচণ্ড সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে অন্ধকারেই দৌড়ে পালিয়ে নিজের আত্মরক্ষা করেন।
পরে ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে দোকানে জিম্মি থাকা স্বামী মাসুদকে অক্ষত উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শনিবার অপরাহ্নে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে এলাকায় বিশেষ ক্র্যাশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ছয়জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— জগতপুর এলাকার মো. রাশেদ প্রকাশ রাজ (১৯), দেলোয়ার হোসেন (২৪), মো. শাহেদুল ইসলাম শাহিন (১৯), উত্তর করিমপুরের মো. শাহরিয়ার নোমান (১৯), আমানউল্লাহপুরের মো. জাকির হোসেন (২১) এবং শাহিন উদ্দিন মুন্না (২৯)।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান জানান, “গ্রেফতারকৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট মামলায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।” ছবি সংগৃহীত।

