রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক (কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ):
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে একটি আবাসিক মাদ্রাসার কোমলমতি দুই শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের (বলাৎকার) অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞাপন
এ অনৈতিক ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবুল বাসারকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা।
বিজ্ঞাপন
গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে কোটচাঁদপুর পৌর এলাকার দুধসরা দারুল উলুম মাদ্রাসাতুস সুফফাহর প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবুল বাসার কৌশলে ওই দুই ছাত্রকে তাঁর শয়নকক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তাদের ওপর অমানবিক যৌন নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর তীব্র ভয় ও মানসিক আতঙ্কে ভুক্তভোগী দুই শিশু বিষয়টি কাউকেই জানাতে সাহস পায়নি।
পরদিন আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিশুদের দাদা তাদের সাথে দেখা করতে মাদ্রাসায় যান। দাদাকে দেখামাত্রই দুই শিশু কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং আগের দিনের বিভীষিকাময় নির্যাতনের করুণ বর্ণনা দেয়।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় শত শত জনতা মাদ্রাস প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তাঁরা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবুল বাসারকে অবরুদ্ধ করে গণধোলাই দেন।
সংবাদ পেয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রক্তাক্ত শিক্ষক আবুল বাসারকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে কক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের যৌন উত্তেজক ওষুধ ও সন্দেহজনক আলামত জব্দ করা হয়েছে, যা মামলার আলামত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

