অবোধ দুই শিশুর পেটে মিললো ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা!

অবোধ দুই শিশুর পেটে মিললো ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

মাদক পাচারের সমস্ত মানবীয় সীমা ছাড়িয়ে অবোধ শিশুদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে পেটের ভেতর ইয়াবা খাইয়ে পরিবহনের এক নারকীয় ও অভিনব কৌশলের পর্দা উন্মোচন করেছে র‌্যাব-৭। কক্সবাজার থেকে শিশুদের পাকস্থলীতে করে চট্টগ্রামে ইয়াবা নিয়ে আসার সময় শারমিন আকতার ওরফে ইসমত আরা নামের এক নারী পাচারকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ সময় তাঁর সাথে থাকা ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুটি অবোধ শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির পর তাদের পেট থেকে মলত্যাগের মাধ্যমে সর্বমোট ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে নগরীর চান্দগাঁওস্থ র‌্যাব-৭ ক্যাম্প মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিপিসি-৩ কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

র‌্যাব জানায়, শিশুদের পেটে করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে মাদকের বড় চালান চট্টগ্রাম আনা হচ্ছে—এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলার দ্বীপ সেতু সংলগ্ন পশুর হাট এলাকায় একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে র‌্যাব। তল্লাশিকালে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশার পেছনের সিটে বসা যাত্রী শারমিন আকতারের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাঁকে আটক করা হয় এবং তাঁর সঙ্গে থাকা শিশু দুটিকে নিজেদের সুরক্ষায় নেওয়া হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই গ্রেপ্তার শারমিন স্বীকার করেন যে আটক দুটি শিশুর পেটের ভেতর প্লাস্টিক ও কস্টেপ দিয়ে মোড়ানো বিপুল পরিমাণ ইয়াবার ছোট ছোট প্যাকেট প্রবেশ করানো রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গত রোববার রাতে শিশু দুটিকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এক্স-রে ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে তাদের পাকস্থলী ও অন্ত্রে বিপুল পরিমাণ পোটলাসদৃশ বস্তুর অস্তিত্ব ধরা পড়ে।

পরবর্তীতে চমেক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের টানা দুই দিনের (৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর) নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসায় মলত্যাগের মাধ্যমে ৯ বছরের শিশুটির পেট থেকে ৬৭টি এবং ১২ বছরের শিশুটির পেট থেকে ৬৬টি বিষাক্ত ইয়াবার প্যাকেট বের করা হয়। এসব প্যাকেটের ভেতর থেকে মোট ৬,৬১৫ পিস তাজা ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব কর্মকর্তা তাওহিদুল ইসলাম আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন স্বীকার করেছেন যে কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে এই ইয়াবাগুলো ক্রয় করে কৌশল হিসেবে কলার সাথে গিলে খাইয়ে শিশুদের পেটে ঢুকিয়ে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছিল। এর আগেও শিশু দুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে একই প্রাণঘাতী উপায়ে আরও অন্তত দুবার সফলভাবে ইয়াবার চালান চট্টগ্রামে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

এ নির্মম ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত শারমিন আকতারকে সংশ্লিষ্ট আনোয়ারা থানায় দায়েরকৃত মাদক মামলায় সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাঁকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী শিশুদের আইনি প্রক্রিয়ায় নিরাপদ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *