স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তারিখ: ৩ নভেম্বর ২০২৬
যশোর শহরের পৃথক দুটি হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পূর্বশত্রুতার জেরে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার পর যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকেও তাকে পুনরায় মারধরের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। অপর ঘটনায় নাইটগার্ডকে গালাগালি করাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে কাচের গ্লাস দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রথম ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২ নভেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে শহরের আরবপুর মোড় এলাকায়। আহতরা হলেন আরবপুর মোড় এলাকার রিপন সরদারের ছেলে মোহাম্মদ আল-আমিন (২৬) এবং তাঁর স্বজন নাদিম (২৮)।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ববিরোধের জেরে আরবপুর দিঘিরপাড় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী রাব্বি (২৮), শামীম (৩২), তারেক (৩০) ও জাকারিিয়াসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আল-আমিনের ওপর হঠাৎ অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আল-আমিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
তবে সেখানেও রেহাই মেলেনি; রাত সোয়া ৯টার দিকে হামলাকারী রাব্বি ও শামীমের নেতৃত্বে আরও ৫-৬ জন বহিরাগত জরুরি বিভাগের ভেতর ঢুকে আল-আমিনকে উদ্দেশ্য করে পুনরায় মারধর শুরু করে। এ সময় সন্ত্রাসীদের ঠেকাতে ও আল-আমিনকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে নাদিমও প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিরাপত্তা জোরদার করে।
অন্যদিকে, আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে শহরের রেলগেট এলাকায় অপর একটি রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, এলাকাভিত্তিক নাইটগার্ডকে অহেতুক গালাগালি করাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি হাতে থাকা কাচের গ্লাস দিয়ে ওয়াহেদ মুরাদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে সজোরে আঘাত করেন। তিনি শহরের বেজপাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মনসুর ড্রাইভারের ছেলে।
কাচের গ্লাসের আঘাতে মুরাদ মারাত্মক রক্তাক্ত হলে স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর আঘাত গুরুতর হলেও বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।
এ দুটি ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

