অবশেষে আলোর মুখ দেখলেন ঘরবন্দী সালেহা বেগম

অবশেষে আলোর মুখ দেখলেন ঘরবন্দী সালেহা বেগম

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া:

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবসান ঘটল দীর্ঘ ১৫ বছরের বিভীষিকাময় অন্ধকার জীবনের। অবশেষে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের নাচনাপাড়া এলাকার জরাজীর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চরম একাকীত্বে ঘরবন্দী থাকা সেই মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত সালেহা বেগমকে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও স্যাঁতসেঁতে ঘরটি থেকে ছেলে জিয়াউর রহমান তাকে বাইরে বের করে আনেন। এই উদ্ধার অভিযান চলাকালে সেখানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, স্বামী আবুল কালামের মৃত্যুর পর থেকে গত ১৫টি বছর এই জরাজীর্ণ ও অন্ধকার ঘরেই বন্দী জীবন কাটিয়েছেন সালেহা বেগম। দীর্ঘ এই দেড় দশকে তিনি এক দিনের জন্যও ঘরের বাইরে পা দেননি এবং আশপাশের বা পরিবারের কারও সঙ্গেই কোনো কথা বলেননি। গোসল বা শৌচকর্ম কোথায় সারতেন তা-ও এতদিন প্রতিবেশী ও স্বজনদের জানা ছিল না। কেবল তাঁর মেয়ে লাকী বেগম তাঁকে নিয়মিত খাবার পৌঁছে দিতেন। অন্যদিকে, তাঁর ছেলে দীর্ঘ দিন ধরে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত থাকায় মায়ের উপযুক্ত দেখাশোনা ও পরিচর্যা করার মতো সামর্থ্য তাঁর ছিল না।

দীর্ঘ দিন পর সালেহা বেগমকে আলোর মুখ দেখতে পেয়ে এবং লোকালয়ে ফিরে আসতে দেখে উচ্ছ্বাস ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে অসহায় এই নারীর স্থায়ী সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং বসবাস উপযোগী একটি নতুন নিরাপদ ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানান তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সালেহা বেগমের যাবতীয় সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে একটি নতুন ঘর তৈরি করে পুনর্বাসিত করার সুনির্দিষ্ট আশ্বাসও প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন।

ছবি-বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *