মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি :
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলায় ২০১৬ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আনুষ্ঠানিকভাবে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালটি এখনো পুরোপুরি ৫০ শয্যার কার্যক্রমে রূপ নেয়নি। কাগজে-কলমে ৫০ শয্যা থাকলেও বাস্তবে হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে আগের সীমিত অবকাঠামো ও জনবল অর্থাৎ ৩১ শয্যার জনবল নিয়ে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালে রোগীর চাপ দিন দিন বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়েনি চিকিৎসাসেবা। প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানের সংকট দীর্ঘদিনের। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে জরুরি বিভাগ, নারী ও শিশু চিকিৎসা এবং পরীক্ষাগারে জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত বেড না থাকায় অনেক রোগীকেই মেঝেতে বা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হয়। এছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও বিভিন্ন বিভাগে সেবার সীমাবদ্ধতায় রোগীদের বাধ্য হয়ে জেলা সদর বা পাশের জেলা ফরিদপুরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা জানান, ৫০ শয্যার হাসপাতাল ঘোষণা হলেও বাস্তবে তারা সেই মানের কোনো সেবা পাচ্ছেন না। হাসপাতালের অবকাঠামো সম্প্রসারণ হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম না থাকায় সাধারণ মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবার কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখনো নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে। দ্রুত জনবল নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং পূর্ণাঙ্গ ১০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতালের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের অবকাঠামোগত কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও, প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়গুলো জানানো হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে মহম্মদপুরের আপামর সকল স্তরের মানুষ মাননীয় মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
ছবি প্রতিবেদক।


