স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তারিখ: ৮ নভেম্বর ২০২৬
অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ভারী যানবাহনের নিয়মিত চাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যশোর-খুলনা মহাসড়কের রাজাহাট থেকে মনিরামপুর ও কেশবপুর হয়ে চুকনগর পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়া এই সংস্কারকাজের ফলে সড়কটি এখন সম্পূর্ণরূপে চলাচলের উপযোগী হয়েছে। এর মাধ্যমে দূর হয়েছে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, ফিরে এসেছে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি এবং যশোর, মনিরামপুর, কেশবপুর ও চুকনগর অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, গত বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পণ্যবোঝাই ভারী ট্রাকের অতিরিক্ত বিচরণের ফলে সড়কটির বিভিন্ন পয়েন্টে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল এবং পিচ উঠে গিয়ে খোয়া বেরিয়ে পড়েছিল। এতে যানবাহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটত। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও চালকদের স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখতে দ্রুত সংস্কারকাজের কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করে যশোর সড়ক বিভাগ। বর্তমানে সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় সড়কটি দিয়ে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে যানবাহন চলাচল করছে।
বিজ্ঞাপন
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২২ সালের শেষভাগে সড়কটির মূল নির্মাণ ও সংস্কারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছিল। ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে মোংলা সমুদ্র বন্দর এবং সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর থেকে পণ্য আমদান-রপ্তানিতে নিয়োজিত ১০ চাকার ট্রাকসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ অবস্থায় সড়কের স্থায়িত্ব ও সর্বসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই সওজ কর্তৃপক্ষ এই জরুরি সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে।
সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী মাইক্রোবাসচালক আব্দুল মাজেদ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “বর্ষা মৌসুমে এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত থাকায় গাড়ি চালাতে গিয়ে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। কিন্তু বর্তমানে রাজাহাট থেকে চুকনগর পর্যন্ত সড়কটি অনেক ভালো হয়েছে এবং গাড়িগুলো অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছে।”
এ বিষয়ে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাম্মী সুলতানা বলেন, “অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত মেয়াদের আগেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। সড়ক বিভাগ তাদের নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী এসব ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করে থাকে। রাজাহাট-চুকনগর সড়কের ক্ষেত্রেও আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই করে ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে সড়কের স্বাভাবিক স্থায়িত্ব দ্রুত কমে যায়। এই ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত তদারকি এবং অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সড়কটি দীর্ঘ সময় ধরে ভালো রাখা সম্ভব হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও পেশাদার চালকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। তাই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের ফলে শুধু যাতায়াতের ভোগান্তিই দূর হয়নি, বরং এই অঞ্চলের স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনেও এর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে সড়কের দীর্ঘস্থায়িত্ব বজায় রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ভারী যান চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি বলে মত প্রকাশ করেছেন তারা। ছবি সংগৃহীত।
