স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিভিল সার্জন কার্যালয়, যশোর থেকে প্রকাশিত অদ্যকার ডেঙ্গু ও হাম রোগীর দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে যে, জেলায় ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত মনিটরিং ও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর জেলায় নতুন করে ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটে নাই। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি যশোর জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৮১ জনে। এর মধ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন মোট ২১৯৫ জন রোগী। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জেলায় মোট ২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অভয়নগরে নতুন ১ জনসহ মোট আক্রান্ত ৭৬২ জন এবং বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ২২ জন, বাঘারপাড়ায় নতুন ৮ জনসহ মোট আক্রান্ত ২০৮ জন এবং ভর্তি ৯ জন, চৌগাছায় নতুন কোনো রোগী না থাকলেও মোট আক্রান্ত ৫৫ জন এবং ভর্তি ১ জন, ঝিকরগাছায় নতুন ২ জনসহ মোট আক্রান্ত ৯২ জন এবং ভর্তি ৮ জন, কেশবপুরে নতুন ৮ জনসহ মোট আক্রান্ত ২৫৯ জন এবং ভর্তি ১৭ জন, মণিরামপুরে নতুন ১ জনসহ মোট আক্রান্ত ১৮০ জন এবং ভর্তি ৬ জন, শার্শায় নতুন কোনো রোগী না থাকলেও মোট আক্রান্ত ২৬৬ জন এবং ভর্তি ২২ জন, এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নতুন ৬ জনসহ মোট আক্রান্ত ৫০৩ জন এবং বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১৮ জন রোগী। এছাড়া চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৮৫ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যান্য জেলায় রেফার্ড করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, একই দিনে প্রকাশিত হাম রোগীর দৈনিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন ৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬ জন। গত ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ হতে অদ্যাবধি প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলায় মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯২ জন। এর মধ্যে মোট ৭৯৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬৩ জন। বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোতে মোট ১৮ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সাধারণ জনগণকে ডেঙ্গু ও হামের বিস্তার রোধে সচেতন থাকার এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।
