স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তারিখ: ২ নভেম্বর ২০২৬
যশোর শহরের লালদীঘির পাড়ে আয়োজিত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সাম্প্রতিক ঝটিকা মিছিলে সক্রিয় অংশগ্রহণ, অবৈধ চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মো. সুমন শেখ (৪০) নামের এক যুবলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে এই অপরাধীকে পাকড়াও করায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ পুলিশ প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) যশোরের কোতোয়ালি মডেল থানার উপশহর ক্যাম্পের পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে আটক করে।
বিজ্ঞাপন
আটককৃত মো. সুমন শেখ যশোর শহরের কোতোয়ালি মডেল থানাধীন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুলিশ লাইন সংলগ্ন টালিখোলা মোড় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি মৃত সুলতান মাহমুদ শেখ ও কমলা বেগমের সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিচয়ে তিনি পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন এবং জেলা যুবলীগের নিয়মিত কর্মী হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা ‘টাক মিলন’-এর প্রত্যক্ষ অনুসারী ও সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে টালিখোলা মোড় ও এর আশপাশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং দোকানদারদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করতেন বলে স্থানীয়দের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয় ছাত্র-জনতা তাঁর বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আস্তানায় ভাঙচুর চালায়। এরপর থেকেই তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা ছেড়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যশোরে যুবলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের পেছনে তাঁর পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ইন্ধন ছিল।
এই অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই অলোক কুমার দে। তাঁর সরাসরি নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় পরিচালিত চৌকস আভিযানিক দল অত্যন্ত গোপনীয়তা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে সুমন শেখকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং অপরাধ দমনে উপশহর ক্যাম্প পুলিশের এই দ্রুত ও সাহসিকতাপূর্ণ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ নাগরিকরা।
এসআই অলোক কুমার জানান, আটককৃত সুমন শেখের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ঝটিকা মিছিলে অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। আটকের পর তাঁকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঝটিকা মিছিলে যুক্ত অন্যান্যদের বিষয়ে ও মিছিলে অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে তথ্য উদঘাটন শেষে আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাঁকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।
