স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে ডেঙ্গুর বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১০২ জনে।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গু বিষয়ক দৈনিক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা এবং পরিসংখ্যানবিদ মো. শামসুল ফালাক স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে পুরো জেলার আপডেটে চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছরে জেলায় ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দুইজন, যা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বিজ্ঞাপন
উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের চিত্রে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ১৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন মনিরামপুর উপজেলায়। এছাড়া শার্শায় ১৩ জন, চৌগাছায় ৯ জন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৮ জন, অভয়নগরে ৭ জন, বাঘারপাড়ায় ৬ জন, কেশবপুরে ৪ জন এবং ঝিকরগাছায় ৩ জন নতুন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলাটিতে বেসরকারি পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ১২৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪২ জন রোগী। উপজেলাগুলোর মধ্যে অভয়নগরে ২৪ জন, শার্শায় ২১ জন, কেশবপুরে ১১ জন, মনিরামপুরে ১০ জন, চৌগাছায় ৯ জন, বাঘারপাড়ায় ৫ জন এবং ঝিকরগাছায় ৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
অন্যদিকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট এক হাজার ৯৩১ জন রোগী। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য এ বছর যশোর থেকে বিভিন্ন উন্নত হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে ৪২ জন রোগীকে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার কামড় থেকে বাঁচতে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ছবি সংগৃহীত।
