শহিদ জয়:
যশোরের বেনাপোলে জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, সশস্ত্র হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী মো. আবুল কাশেম। নিজের ও দলের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) যশোর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা জানান এই রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবুল কাশেম জানান, গত ২০ অক্টোবর যশোর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে হযরত আলী নামের এক ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, চোরাচালান এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মারাত্মক অভিযোগ আনেন। এছাড়া গত ৬ সেপ্টেম্বর পিস্তল ও দেশীয় রামদা নিয়ে হামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার যে কথা বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও সাজানো নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়। এ ধরনের মনগড়া অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার আসল প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আবুল কাশেম দাবি করেন, বিরোধের মূল উৎস একটি সরকারি খাসজমি। স্থানীয় মোখলেছুর রহমান ও জালাল উদ্দীনের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে ওই সরকারি জমি নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। ইতিপূর্বে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে পুনরায় বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ বেনাপোল পোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ জানালে পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সরকারি খাসজমি নিয়ে সংঘাত না করে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার পরামর্শ দেন।
তবে পরবর্তীতে আর কোনো আনুষ্ঠানিক শালিস বৈঠক না বসলেও জালাল উদ্দীনের স্ত্রী ওই জমিতে গোয়ালঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে শ্রমিক দিয়ে মাটি খনন শুরু করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে হযরত আলী আদালতে মামলা দায়ের করেন, যেখানে শিক্ষার্থী, বন্দরশ্রমিক, সাধারণ দিনমজুর ও নির্দোষ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়। পুরো বিষয়টি বর্তমানে পিবিআই এবং বেনাপোল পোর্ট থানায় তদন্তাধীন রয়েছে।
আবুল কাশেম জোর দিয়ে বলেন, বিতর্কিত ওই জমির মালিক তিনি ও অভিযোগকারী হযরত আলী কেউই নন। সেটি পুরোপুরি সরকারি খাসজমি। দুই পরিবারের অভ্যন্তরীণ খাসজমি কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে তাঁর ওপর মিথ্যা চাঁদাবাজির দায় চাপানো হচ্ছে।
অভিযোগকারী হযরত আলীর রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে পাল্টা দাবি তুলে ধরে বিএনপি নেতা বলেন, হযরত আলী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটির সুবিধাভোগী ও সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় নানা অসাধু কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে আওয়ামী শক্তির দোসর হয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে এবং সামাজিকভাবে তাঁকে ও বিএনপিকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এই ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ দিন ধরে সুনামের সাথে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় জামে মসজিদের সভাপতি এবং বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ খবরে তাঁর বহু বছরের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিক সমাজের প্রতি নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চালিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আকুল আবেদন জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আজিজুর রহমান খোকন, শহিদুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, মোখলেছুর রহমান ও আক্তার হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ছবি সংগৃহীত।
