স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় অভিনব কায়দায় সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে বাড়ির চারপাশ ও শয়নকক্ষ মনিটরিং করার মাধ্যমে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া মো. হোসেন আলী (৩৬) নামের এক শীর্ষ কারবারিকে সাড়ে চার শ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম থানাধীন নন্দীগ্রাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া গ্রামস্থ নিজ দখলীয় তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা পাকা বাড়িতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারি মো. হোসেন আলী নন্দীগ্রাম পৌরসভার কলেজপাড়া গ্রামের মৃত হাফিজার রহমান ও মোসা. হাসনা বেগম দম্পতির ছেলে।
বিজ্ঞাপন
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি আভিযানিক দল নন্দীগ্রাম কলেজপাড়া এলাকায় হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় আসামির নিজ দখলীয় বাড়ির দক্ষিণ দুয়ারী শয়নঘরের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে তাঁর দেহ থেকে একটি কালো রঙের পলিথিনের ভেতর বিশেষ কায়দায় রাখা তিনটি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিপ্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ১৫০ পিস করে মোট ৪৫০ পিস হালকা কমলা রঙের অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
অভিযানের সময় মাদকের পাশাপাশি আসামির ব্যবহৃত যোগাযোগের মাধ্যম এবং নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি সিমসহ টেকনো ক্যামন অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, দুটি সিমসহ একটি সিম্ফোনি বাটন মোবাইল ফোন, একটি হিকভিশন ব্র্যান্ডের ডিভিআর (DVR), হিকভিশন ব্র্যান্ডের দুটি বুলেট সিসি ক্যামেরা (মডেল নং- DS-2CE17DOT-LFS), একই ব্র্যান্ডের মডেলবিহীন একটি ডোম সিসি ক্যামেরা এবং একটি মিনি বুলেট সিসি ক্যামেরা (মডেল নং- DS-2CE16GOT-LPFS/E)।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেপ্তারকৃত হোসেন আলী অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তার মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য বাড়ির চারপাশ ও অন্দরমহলে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। ক্যামেরার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি বা সন্দেহভাজন গতিবিধি লক্ষ্য করে সে নিরাপদ দূরত্বে থাকত।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. সামসুল আলম বাদী হয়ে ধৃত আসামির বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, জব্দকৃত সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক ও ফুটেজ ফরেনসিক অ্যানালাইসিস করা হবে। এই অবৈধ মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে, তা ফুটেজ পর্যালোচনা করে চিহ্নিত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

