স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র জেল রোড এলাকায় অবস্থিত ‘উত্তরা প্রাইভেট হাসপাতালে’ সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর অবহেলা ও অপচিকিৎসার কারণে উর্মি খাতুন নামের এক প্রসূতি মায়ের করুণ মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন তাঁর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা।
নিহত উর্মি খাতুন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলিমের স্ত্রী।
পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সন্তান প্রসবের জন্য শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সকালে প্রসূতি উর্মি খাতুনকে যশোর শহরের জেল রোডস্থ উত্তরা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এর প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ফারহা দিবা তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। সিজারের মাধ্যমে একটি সুস্থ ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম হলেও অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে বের করার পর রোগীর আর জ্ঞান ফেরেনি বলে স্পষ্ট দাবি করছেন নিহতের পরিবার।
বিজ্ঞাপন
একপর্যায়ে অস্ত্রোপচারের স্থান থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকলে প্রসূতির শারীরিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে ওই দিন সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে তাকে খুলনা রেফার করে।
তবে নিহতের স্বজনদের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, প্রসূতিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে পৌঁছানোর পর সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান যে খুলনা পৌঁছানোর অন্তত আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা আগেই তাঁর মৃত্যু ঘটেছে। এ তথ্যে স্বজনদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে যায় এবং তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তাঁদের প্রশ্ন, যদি উত্তরা হাসপাতালেই প্রসূতির প্রাণহানি ঘটে থাকে, তবে দায় এড়াতে কেন তাঁকে আশঙ্কাজনক দেখিয়ে খুলনায় পাঠানের নাটক সাজানো হলো?
নিহতের ভাসুর তুহিন হোসেন অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাঁর ভাবি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন। মূলত চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও ভুল ব্যবস্থাপনার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এই অন্যায়ের বিচারে তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ছবি সংগৃহীত।
