স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
কুমিল্লার ১৫ বছর বয়সি স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার নির্মম ঘটনায় নতুন এক মোড় এসেছে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সহযোগীদের শিকড় খুঁজতে গিয়ে পুলিশ কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নামের এক তরুণকে আটক করা হয়েছে, যিনি স্থানীয় একটি আবাসিক হোটেলের কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিহত তাজমিন কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার ‘মেঘলা রিসোর্ট’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ওই কিশোরীকে কক্ষ ভাড়া নিতে এবং সেখানে অবস্থানের পুরো সময়টিতে নানাভাবে সহযোগিতা করেছিল এই রাজু। এর পরদিন বুধবার বেলা ১১টার দিকে ওই হোটেল ছেড়ে চলে যান তাজমিন।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই বুধবার রাতে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নেমে রেসকোর্স এলাকার বাসার উদ্দেশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন তিনি। পুলিশি অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয় যে, অটোরিকশাচালক সুমন তাকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে না দিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার এক নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে পৈশাচিক কায়দায় তাকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন সকালে স্থানীয় একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।
বিজ্ঞাপন
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক পর্যায়ে চট্টগ্রাম থেকে সিএনজিচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিহত তাজমিনের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, চালক সুমন ইতোমধ্যে আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের কললিস্ট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ব্যাপক চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। সার্বিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বাকি সব রহস্য দ্রুত উন্মোচন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছবি সংগৃহীত।

