স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে নাফ নদী পেরিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচারের প্রাক্কালে স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ ও চোরাচালানবিরোধী সফল অভিযানে ৪২ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ লাখ পিস ইয়াবা বড়িসহ দুই পেশাদার পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৬৪ বিজিবি, উখিয়া ব্যাটালিয়ন)।
বিজ্ঞাপন
গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জেলেপাড়া সীমান্ত এলাকায় নাফ নদীর মোহনায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবার এই বিশাল চালানটি জব্দ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আটককৃত পাচারকারীরা হলেন— টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ফুলের ডেইল এলাকার বাসিন্দা জয়ঘর দাস এবং একই এলাকার মো. হোসাইন।
গতকাল বিকেলে টেকনাফ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় কক্সবাজারের রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার উল-আলম এবং ক্যাপ্টেন মাহরাফ জামান উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক জানান, মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ইয়াবার এক অভূতপূর্ব ও বৃহৎ চালান বাংলাদেশে প্রবেশের সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্য পেয়ে সীমান্তে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়। বিজিবির একটি বিশেষ চৌকস আভিযানিক দল আধুনিক প্রযুক্তি ও নাইট ভিশন সামগ্রী নিয়ে নাফ নদীর কৌশলগত স্থানে অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে বিজিবির ব্যবহৃত সর্বাধুনিক ‘থার্মাল ইমেজিং’ প্রযুক্তির সাহায্যে গভীর রাতে মিয়ানমার সীমান্ত পার হয়ে হ্নীলা সীমান্ত দিয়ে একটি সন্দেহভাজন নৌকাকে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকতে দেখা যায়। নৌকাটি ভিড়ামাত্র চারপাশ ঘিরে ফেলে বিজিবির বিশেষ টহল দল এবং এতে থাকা দুই ব্যক্তিকে আটক করে। পরে ট্রলারে নিবিড় তল্লাশি চালিয়ে কয়েকটি বিশেষ বস্তায় রাখা মোট ১৪ লাখ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪২ কোটি টাকা।
সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পুনর্ব্যক্ত করেন, “নানা প্রতিকূলতা ও সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। সীমান্ত চোরাচালান ও মাদক কারবার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”
সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার উল-আলম যোগ করেন, সীমান্ত এলাকা পুরোপুরি নিছিদ্র রাখতে বর্তমানে ড্রোন নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে চোরাকারবারিরা কৌশল পাল্টালেও পার পাচ্ছে না।
বিজিবির প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আজ পর্যন্ত উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে এবং এই সংক্রান্ত অপরাধে ২৪৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়ায় সোপর্দ করেছে। ছবি সংগৃহীত।


