স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার অটোরিকশাচালক মো. রাহুল (১৯) হত্যা এবং অটোরিকশা চুরির ঘটনার দীর্ঘ দুই বছর পর চাঞ্চল্যকর এই মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা ইউনিট। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোট ৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ভিকটিম অটোরিকশাচালক মো. রাহুল তার ভাড়াকৃত অটোরিকশাটি নবাবগঞ্জ থানাধীন চক সিংহড়া এলাকায় জনৈক ওমর ফারুকের ওয়ার্কশপে রাখতেন এবং সেখানে রাতেই ঘুমাচ্ছিলেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখ সকাল অনুমান ৯টায় উক্ত ওয়ার্কশপের দক্ষিণ-পূর্ব কোনে জনৈক লিয়াখতের ভুট্টা ঘাসের জমির ঝোপ থেকে রাহুলের অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আঃ রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (নম্বর-২১, তারিখ-০৯/০২/২০২৪, ধারা-৩৯৪/৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন। থানা পুলিশের তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় মামলাটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পিবিআইয়ের নিকট হস্তান্তরিত হয় এবং এসআই মো. আব্দুর রহিমকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
পিবিআই ঢাকা জেলার টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মো. সমেজ (৩২)-কে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামি মো. সবুজ মিয়া (২৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সবুজ মিয়া এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। আসামি সবুজের দেওয়া জবানবন্দীর সূত্র ধরে পরবর্তীতে খবির ওরফে গোবিন্দ (২৮), মো. হাবিব ওরফে সজল (৩৬) এবং মো. লালন মোল্লা (৪৩)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. লালন মোল্লাও বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন।
বিজ্ঞাপন
পিবিআইয়ের তদন্ত এবং আসামিদের জবানবন্দী পর্যালোচনায় জানা যায় যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা সকলে নিহত রাহুলের পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মো. লালন মোল্লা ইয়াবা ব্যবসা করতেন এবং ভিকটিম রাহুলসহ অন্য আসামিরা তার কাছ থেকে ইয়াবা কিনে একত্রে সেবন করত। একপর্যায়ে আসামিরা রাহুলকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করার পরিকল্পনা করে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে লালন সবুজকে দিয়ে রাহুলকে তার অটোরিকশাসহ একটি খোলা মাঠে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে লালন ছাড়াও সবুজ, সজল, সমেজ ও গোবিন্দ উপস্থিত ছিল। প্রথমে তারা ভিকটিম রাহুলকে ইয়াবা খাওয়ায় এবং সুযোগ বুঝে লালন লোহার এঙ্গেল দিয়ে রাহুলের মাথার পিছনে সজোরে আঘাত করলে মাথা ফেটে রক্ত বের হয়। এরপর রাহুলের কানে ও মুখে ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয় এবং শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা মৃতদেহটি অটোরিকশায় করে আসামি সজলের গরুর খামারে নিয়ে গিয়ে দুই দিন লুকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখ রাত ১টার পর মৃতদেহটি ওমর ফারুকের ওয়ার্কশপের পাশে ফেলে আসে। এরপর তারা রাহুলের অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেয় এবং বিক্রির সমস্ত টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পিবিআইয়ের তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
