স্ফুলিঙ্গ ডেক্স : ছবি সংগৃহীত।
পাবনা সদর উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী কামরুন্নাহার কলি (১০)-কে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মামলায় উঠে এসেছে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডোবা থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের এক সপ্তাহ পর, নিহত শিশুর বিচ্ছিন্ন দুই পায়ের খোঁজে আবারও ঘটনাস্থল ও আশপাশের ডোবায় চিরুনি অভিযান চালিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গতকাল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী কলুনিয়া এলাকায় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম স্থানীয়দের সহায়তায় এই তল্লাশি কার্য পরিচালনা করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সুত্র ধরে গভীর রাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম।
বিজ্ঞাপন
মামলা ও ঘটনার তথ্য সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় নিষ্পাপ শিশু কামরুন্নাহার কলি। এর সাত দিন পর, ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির কাছের একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে পাবনার পুলিশ সুপার ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, শিশুটির দেহ খণ্ডিত বা টুকরো করা হয়নি। তবে দাফনের সময় স্বজন ও স্থানীয়রা দেখতে পান শিশুটির দুই পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ গায়েব।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল ও স্বজনদের জোরালো দাবির মুখে মঙ্গলবার বিকেলে ডিবির ওসি আব্দুস সালাম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বেনু রায়ের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডোবা ও আশপাশের নর্দমায় হন্যে হয়ে নিখোঁজ পায়ের সন্ধান চালায়। তবে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরও এখন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন পা দুটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ডিবির ওসি আব্দুস সালাম জানান, “পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল শিশুটির পায়ের নিচের অংশ নেই। তাদের সেই সংশয় দূর করতে ও প্রমাণের তাগিদে ঘটনাস্থলে পুনরায় সার্চ অভিযান চালানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।”
উল্লেখ্য, নৃশংস এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা শিশুটিকে নিজের দোকানের পেছনে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে বস্তাবন্দি করার কথা স্বীকার করেছে। এমনকি অপরাধ ঢাকতে ঘাতকরা নিহত শিশুর পরিবারের সাথে খোঁজাখুঁজি ও মানববন্ধনেও অংশ নিয়েছিল। ছবি সংগৃহীত।

