ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি :
দিনের আলো ফোটার আগেই মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া বাজারের একটি বিরোধপূর্ণ জমির দৃশ্যপট রাতারাতি বদলে ফেলা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের মামলা ও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) চলমান থাকা অবস্থাতেই তিন ভাইয়ের পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল করে রাতের আঁধারে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুখু মিয়া ও কবির হোসেনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী তিন ভাই মো. বাকি বিল্লাহ, মো. কামাল হোসেন ও মো. জামাল হোসেন অভিযোগ করে জানান, ডাঙ্গাপাড়া বাজারে তাঁদের নামে থাকা সম্পত্তিতে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে কোনো ধরনের অনুমতি ও আইনি তোয়াক্কা না করেই বিবাদীরা বেআইনিভাবে স্থাপনা গড়ে তোলে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. জামাল হোসেন বাদী হয়ে অভিযুক্ত দুখু মিয়া ও কবির হোসেনের নাম উল্লেখ করে মহম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-১০৪৮) দায়ের করেছেন।
বিজ্ঞাপন
জিডি ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তিন ভাই জীবিকার তাগিদে নিয়মিত বাড়িতে অবস্থান করতে পারেন না। এ সুযোগে বাড়িতে থাকা অসহায় নারীদের লক্ষ্য করে অভিযুক্তরা প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানা ধরনের উৎপাত চালিয়ে আসছে। এর আগেও মো. কামাল হোসেনকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অভাবনীয় বিষয় হলো, পূর্বের মারধরের মামলা চলমান থাকা এবং নতুন করে জিডি করার পরও থেমে থাকেনি দখলদার চক্র। স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা জানান, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে জানাজানি হওয়ার ভয়ে বিবাদীরা শুক্রবার গভীর রাতে লোকচক্ষুর অন্তরালে তড়িঘড়ি করে টিনের ঘর তুলে ফেলে।
ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও সত্যতা যাচাই করতে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত দুখু মিয়া চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। এমনকি সংবাদকর্মীদের সামনেই তিনি প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে বলেন— “ওদেরকে একবার মেরেছি, বাজারে ওঠা বন্ধ করেছি; আবার সামনে পেলে আবারও মারবো।”
শুধু তা-ই নয়, ঘটনার অনুসন্ধানে পুলিশ ও সাংবাদিকরা যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের উপস্থিতিতেই অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশোভন আচরণ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পূর্বের মামলা, থানায় জিডি এবং বিরোধের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভুক্তভোগী পরিবারটি কোনো ধরনের সংঘাত এড়িয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে বেআইনি ঘর অপসারণ, প্রকৃত মালিকানা উদ্ধার এবং নিজেদের জীবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

