জাকির হোসাইন তুষার,মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পাল্লা গ্রামে ধারদেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গড়া একটি ফলন্ত কলাবাগান রাতের আঁধারে কেটে সাবাড় করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) রাতে উপজেলার পাল্লা গ্রামের গোরস্থানসংলগ্ন এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জয়দার শেখের প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কৃষক জয়দার শেখ বাড়ির পূর্ব পাশে ১০০ শতক জমিতে শখ করে ও লাভের আশায় কলার বাগান গড়ে তুলেছিলেন। বাগানটি করতে গিয়ে তাঁকে এনজিও এবং বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ ও ধারদেনা করতে হয়েছিল। দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও পরিচর্যায় গাছগুলোতে ইতোমধ্যে কলার কাঁদি ও ছড়া আসতে শুরু করেছিল। আর কিছুদিন পরেই এসব কলা বাজারে বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ এবং সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।
কিন্তু শনিবার রাতে কে বা কারা ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাগানের প্রায় এক হাজার ফলন্ত কলাগাছ নির্মমভাবে কেটে ফেলে। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বাগানে গিয়ে গাছগুলোর এমন অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে পড়েন জয়দার শেখ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বাগানের গাছগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিমিষেই চুরমার হয়ে গেছে ওই কৃষকের স্বপ্ন। একদিকে এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ, অন্যদিকে সংসারের খরচ—সব মিলিয়ে এখন চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক জয়দার শেখ জানান, ঋণ পরিশোধের একমাত্র ভরসা ছিল এই বাগানটি। কিন্তু শত্রুরা তাঁর সব শেষ করে দিয়েছে। এই ঘটনায় তিনি স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলম নবী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কৃষকের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ জানিয়েছেন যে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।
