মাগুরায় ‘ভূতুড়ে বিলের’ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরখাস্ত

মাগুরায় ‘ভূতুড়ে বিলের’ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরখাস্ত

জাকির হোসাইন তুষার, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:

মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এক মাসে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মাগুরার এক গ্রাহক! পল্লী বিদ্যুতের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও এই নজিরবিহীন অস্বাভাবিক বিল পরিশোধের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের হস্তক্ষেপে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিদ্যুৎমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) অভিযুক্ত জিএমকে সাময়িক বরখাস্ত করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর আগে অভাবনীয় এই ভুলের বিষয়টি নজরে আসার পরপরই মন্ত্রী নিজে সরাসরি ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে। ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিলে এই অবিশ্বাস্য অঙ্ক উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিলের মূল কপি ও বিস্তারিত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গ্রাহক আলেয়া খাতুন সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করেছেন। সাধারণ আবাসিক গ্রাহক হিসেবে তাঁর ব্যবহৃত বিদ্যুতের প্রকৃত প্রাক্কলিত বিল হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা; যা বিলম্ব মাশুলসহ দাঁড়াত ২ হাজার ৫৬ টাকা। কিন্তু পল্লী বিদ্যুতের ওই বিলে কেবল ‘ডিমান্ড চার্জ’ হিসেবেই বসানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা!

এর সাথে আরও ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার ভ্যাট এবং মিটার ভাড়া যুক্ত হয়ে মোট বিল তৈরি করা হয় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করলে বিলম্বে বিলম্ব ফি-সহ সেই অঙ্ক ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল গ্রাহককে!

অস্বাভাবিক এই বিলের কাগজ হাতে পেয়ে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে ভুক্তভোগী আলেয়া খাতুন বলেন, “এটি কোনো ভূতুড়ে বিল নয়, বরং দায়িত্বশীলদের চরম গাফিলতি ও আজগুবি কর্মকাণ্ড। পল্লী বিদ্যুতের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ভুলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।”

বিষয়টি জানতে পেরে সরাসরি পদক্ষেপ নেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি ফোন করে ভুক্তভোগী গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে ভুল শুধরে সংশোধিত বিল পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে গ্রাহকের হাতে সঠিক বিল পৌঁছে দেওয়া হয়।

চরম গাফিলতির বিষয়ে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ভুলের সত্যতা স্বীকার করে জানান, গ্রাহকের মিটারের নিরাপত্তা সিল পরিবর্তনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর অসাবধানতাবশত সিলের ডিজিটাল সিরিয়াল নম্বরটি বিলে ‘ডিমান্ড চার্জের’ ঘরে ইনপুট হয়ে যায়। এর ফলেই স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমে বিলটি প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে।

এ ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনসহ সংশ্লিষ্ট দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও কারণ দর্শানোর আদেশ জারি করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

মহম্মদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপিত

মহম্মদপুরে ঋণের টাকায় গড়া কৃষকের ফলন্ত কলাবাগান কেটে নিধন!

মহম্মদপুরে মধুমতীর বুকে শরতের কাশফুলের শুভ্র সমারোহ : মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা

মাগুরায় ২৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মাগুরায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা

মাগুরায় ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ 'মাদক সম্রাট' শাহীন ও স্ত্রীসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার

সাংবাদিকদের 'বেরিয়ে যেতে' বললেন মাগুরার ডিসি

মহম্মদপুর উপজেলা মাঠে জাঁকজমকপূর্ণ ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

"শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে": মাগুরায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি নেওয়াজ হা...

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *