বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু (কলাপাড়া):
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মায়ের পছন্দ ও পারিবারিক সম্মতিতে আপন মামাতো বোনকে বিয়ে করেও শেষ রক্ষা হয়নি তরুণ বেল্লাল হোসেনের। বিয়ের এক মাস না যেতেই শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের অমানবিক মানসিক নির্যাতন ও ক্রমাগত ‘বিষ খেয়ে মরার’ প্ররোচনায় বিষপানে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
উক্ত ঘটনায় আত্মহত্যার দীর্ঘ ৯ মাস পর কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শাশুড়িসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিব মিয়ার ছেলে বেল্লাল হোসেনের সাথে তাঁর আপন মামাতো বোনের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই বেল্লালকে নিজ বাড়িতে ‘ঘর জামাই’ থাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন তাঁর মামা (শ্বশুর) ইলিয়াস ও মামী (শাশুড়ি)। বেল্লাল এতে রাজি না হওয়ায় তাকে ‘অকর্মা’, ‘ভাদাইম্মা’সহ বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় প্রতিনিয়ত গালিগালাজ ও মানসিক অত্যাচার চালানো হতো। এমনকি তাকে বারবার বিষ খেয়ে মরার পরামর্শ ও অপমান করা হতো।
বিজ্ঞাপন
নির্যাতন সইতে না পেরে একপর্যায়ে বেল্লাল বিষপান করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বেল্লাল তাঁর মাকে জানান, “শ্বশুর ও শাশুড়ি আমাকে বিষ খেয়ে মরতে বলেছেন। মা, তুমি এই হত্যার বিচার চাইবে।” চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেল্লালের মৃত্যু হলে রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়তা এবং বেল্লালের রেখে যাওয়া একমাত্র দুগ্ধজাত শিশুর ভবিষ্যৎ চিন্তা করে প্রাথমিক অবস্থায় থানায় মামলা করা থেকে বিরত থাকে পরিবার।
নিহতের মা লাইজু বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার আবদারেই ছেলে আপন মামাতো বোনকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই আমার ভাই ও ভাবি তাকে ঘর জামাই রাখার জন্য নির্যাতন শুরু করে। পরে তাদের যন্ত্রণায় টিকতে না পেরে ছেলে বিষপানে বাধ্য হয়। এতদিন আপস-রফার কথা বলে সময় ক্ষেপণ করে এখন তারা উল্টো আমার একমাত্র জীবিত অপর সন্তানকেও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। সন্তান হারানোর ভয়ে ও ন্যা বিচারের আশায় বাধ্য হয়ে আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”
তবে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ অস্বীকার করে বেল্লালের শ্বশুর ইলিয়াস হোসেন বলেন, “ঘটনার দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। জামাতাকে আমরা কখনো কোনো ধরনের নির্যাতন বা অপমান করিনি। আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনা সংক্রান্তে থানায় পূর্বে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। এছাড়া আদালত থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্তের আনুষ্ঠানিক আদেশ থানায় পৌঁছেনি। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনামা বা তদন্তের কপি হাতে পেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

