বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু (কলাপাড়া):
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার ও ভাগ চাওয়াক কেন্দ্র করে গোলাপি আক্তার (৩৫) নামে এক নারীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে পিঠ ও মেরুদণ্ডে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ চাচাদের বিরুদ্ধে।
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘাত ও হামলার ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা তাৎক্ষণিক আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত গোলাপি আক্তারকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলাকারীদের লোহার রডের আঘাতে গোলাপির মেরুদণ্ডে মারাত্মক জখম ও আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন আহত গোলাপি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “চার বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই চাচারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি ও জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। আমরা আমাদের প্রাপ্য অংশের অধিকার বুঝিয়ে দিতে বলায় তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষিপ্ত ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার দুই ভাই মেহেদী ও ইমরান মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গেলে দখলদার সোহেল খান, ফিরোজ খান, দুলাল খান, বাবুল খান, এনায়েত খান, পিয়ারা বেগম ও শাজাহান রাঢ়ীসহ একদল সশস্ত্র লোক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। খবর পেয়ে আমি ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে আমাকেও নির্দয়ভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।”
আহতের ভাই মিজানুর রহমান আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, কর্মসংস্থানের তাগিদে তারা ঢাকায় বসবাস করেন। বাবার অকালমৃত্যুর পর থেকে চাচারা জমি দখল করে রেখেছিলেন। পৈতৃক সম্পত্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নিতে তারা গ্রাম এসে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে শালিস বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত শালিসের পূর্বেই প্রতিপক্ষরা পরিকল্পনা অনুযায়ী এই নারকীয় হামলা চালায়। তিনি অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফিরোজ খান জমি জমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে বলেন, “তারা যে জমি দাবি করছে, তা তারা কোনোভাবেই পাবে না।” তবে মারধরের বিষয়টি তিনি কিছুটা এড়িয়ে গিয়ে নিজেদের মধ্যে সামান্য হট্টগোল ও মারামারি হয়েছে বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, জমি জমা নিয়ে মারধরের বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দায়ের হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি প্রতিবেদক।

