স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় নিজ এলাকার মাদক সিন্ডিকেট ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা ফরহাদ হোসেন (৩৫) নামের এক সামাজিক সংগঠক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বিজ্ঞাপন
শরীরে আগুন লাগার পর তীব্র যন্ত্রণায় প্রাণ বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিজ্ঞাপন
নিহত ফরহাদ হোসেন মুক্তাগাছা পৌর শহরের মধ্যহিস্যা এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে। পেশায় সবজি বিক্রেতা হলেও এলাকায় বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরি ও মাদক নির্মূলে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিতেন তিনি। স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিত ফরহাদ বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তার দিকে যাচ্ছিলেন ফরহাদ। এ সময় পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত আচমকা তাঁর পেছন থেকে এসে শরীরে দাহ্য পদার্থ পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মুহূর্তে স্থান ত্যাগ করে।
মুহূর্তের মধ্যেই দাউ দাউ করে আগুন ফরহাদের পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করতে করতে শরীর নেভানোর আকুল চেষ্টায় পাশের একটি জলাশয়ে লাফিয়ে পড়েন তিনি।
ফরহাদের করুণ আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ও স্বজনেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পানি থেকে তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে দ্রুত মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে তাঁর শরীরের অধিকাংশ অংশ আশঙ্কাজনকভাবে পুড়ে যাওয়ায় জরুরি চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকেরা। সেখানে নিবিড় পরিচর্যায় থাকা অবস্থায় আজ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় মাদক কারবারি ও প্রভাবশালী চক্রের হাত রয়েছে বলে দাবি করছে নিহতের পরিবার। শোকে পাথর হয়ে নিহত ফরহাদের বাবা আব্দুস সাত্তার বলেন, “আমার ছেলেটা সবসময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করত এবং মাদকের বিরুদ্ধ কথা বলত। এটাই তাঁর কাল হলো। এলাকার কুচক্রী ও মাদক সিন্ডিকেটের লোকেরাই পরিকল্পনা করে আমার ছেলেকে পুড়িয়ে মেরে ফেলেছে। আমি ঘাতকদের ফাঁসি চাই।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, “হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ উন্মোচন এবং জড়িত ঘাতকদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়েরের আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।” ছবি সংগৃহীত।

