ফেসবুক ও ইউটিউবে চ্যানেল খুলেই সাংবাদিক!

ফেসবুক ও ইউটিউবে চ্যানেল খুলেই সাংবাদিক!

রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ):

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের সুযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল খুলে নিজেদের ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দেওয়ার একটি অস্বাভাবিক প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন কিছু কথিত অনলাইন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে পেশাগত শিষ্টাচার লঙ্ঘন, তথ্য যাচাই না করে মনগড়া তথ্য প্রচার এবং সংবাদ সংগ্রহের দোহাই দিয়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর অবৈধ চাপ সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। এতে পেশাদার সাংবাদিকতা যেমন প্রশ্নের মুখে পড়ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষুণ্ন হচ্ছে গণমাধ্যমের সামগ্রিক ভাবমূর্তি।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি ফেসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেলকে সংবাদমাধ্যম হিসেবে দাবি করে কেউ কেউ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নানা ধরনের প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা করেন। সংবাদের ভয় দেখিয়ে সুবিধা নেওয়া, অযাচিত চাপ সৃষ্টি কিংবা নিরপেক্ষতা বিসর্জন দিয়ে একতরফা বক্তব্য প্রচারের মতো ঘটনাও ঘটছে অহরহ। তবে আইন ও সংবাদ নীতির আলোকেও যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যথাযথ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ছাড়া প্রচার করা চরম অনুচিত।

সাংবাদিকতা কেবল একটি পরিচয়পত্র, ক্যামেরা কিংবা ফেসবুক পেজের নাম নয়; এটি এক অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক পেশা। তথ্যের সঠিকতা যাচাই, একাধিক স্বতন্ত্র উৎস থেকে তথ্য নিশ্চিত হওয়া, অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া এবং নাগরিকের সম্মান ও অধিকার রক্ষা করা পেশাদার সাংবাদিকতার মৌলিক শর্ত।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞ ও সুধী সমাজের মতে, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হয়রানির চেষ্টা চালায়, তবে তার নেতিবাচক দায় পুরো গণমাধ্যম কাঠামোর ওপর এসে পড়ে। তাই সাংবাদিকতার পরিচয়ের অপব্যবহার ও অনিয়ম নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল অনলাইন সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করা জরুরি।

একই সঙ্গে সচেতন মহল সাধারণ পাঠকদেরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চটকদার সংবাদ যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ‘ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজ খুললেই সাংবাদিক হওয়া যায় না—সাংবাদিকতা প্রমাণ করতে হয় দায়িত্বশীলতা, সততা ও পেশাদারিত্ব দিয়ে।’ছবি – এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *