স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের কেশবপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গ্যাসবাহী লরি সড়কের পাশের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ার এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে বসতবাড়ির বাথরুমসহ ভবনের বিভিন্ন অংশ দুমড়ে-মুচড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সাথে ভেতরে থাকা একটি প্রাইভেটকারের গ্লাস ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। দুর্ঘটনার বিকট শব্দে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েন। তবে বড় ধরনের বিস্ফোরণ কিংবা অলৌকিকভাবে প্রাণহানি না ঘটলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক। দুর্ঘটনায় ট্যাংকারের চালক ও হেলপার আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
গতকাল বুধবার ভোরে যশোর-চুকনগর সড়কের কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল চারের মাথা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত চট্টগ্রাম মেট্রো-ঢং-৬১-০৩৯৮ নম্বরের গ্যাসবাহী ট্যাংকারটি ঢাকা থেকে ছেড়ে খুলনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। আলতাপোল চারের মাথা এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর পরপরই গাড়িটি সড়কের পাশে থাকা স্বাস্থ্যকর্মী হাবিবুর রহমানের পাকা বসতবাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাড়ির বাথরুমের অংশ ভেঙে ট্যাংকারটি ভেতরে ঢুকে যায় এবং ভবনের অন্যান্য স্থানেও প্রচণ্ড আঘাত লাগে।
বিজ্ঞাপন
বাড়ির মালিক হাবিবুর রহমান জানান, গভীর রাতে পরিবারের সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ ও তীব্র কম্পনে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। আতঙ্কিত হয়ে বাইরে এসে তারা দেখেন একটি বিশাল গ্যাসবাহী ট্যাংকার তাঁদের ঘরের দেওয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে আছে। এত বড় দুর্ঘটনার পরও পরিবারের সবার অক্ষত থাকাটাকে পরম করুণাময়ের অলৌকিক কৃপা বলে মনে করছেন তিনি।
পাশেই থাকা ক্ষতিগ্রস্ত প্রাইভেটকারের মালিক কওসার জানান, ট্যাংকারের ধাক্কায় তাঁর বাড়ির একাংশ গুঁড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উঠানে থাকা প্রাইভেটকারটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গভীর রাতের এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় পুরো পরিবার এখনো মানসিক আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের সঠিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রায়ান টেলার্সের স্বত্বাধিকারী কবির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত যানটি গ্যাসবাহী হওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। জনবসতিপূর্ণ এমন এলাকায় ভারী ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচলে গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, বাড়ির বাথরুম ও দেয়ালের বড় অংশ ভেঙে ইটের স্তূপে পরিণত হয়েছে। সীমানা প্রাচীর ও ভবনের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনার সুস্পষ্ট চিহ্ন ছড়িয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে এখনো কেউ থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি। ছবি সংগৃহীত।


