কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে টাইলস মিস্ত্রির কাজ করা বাংলাদেশি নাগরিক মো. বজলুর রহমানকে অপহরণের পর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে ২৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় জড়িত আন্তঃদেশীয় অপরাধ চক্রের অন্যতম সদস্যকে পাকড়াও করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুষ্টিয়া জেলা শাখা।
বিজ্ঞাপন
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মো. রাহাত আহমদ (২২)। গত বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চৌড়হাস এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে সে বিজ্ঞ আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি প্রদান করেছে।
বিজ্ঞাপন
মামলা ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম বজলুর রহমান লিবিয়ায় কাজ শেষে গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বাসায় ফেরার পথে অজ্ঞাত মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্তের হাতে অপহৃত হন। পরদিন অপহরণকারীরা ইমো ভিডিও কল দিয়ে লোহার পাইপ দিয়ে বজলুর রহমানকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার দৃশ্য পরিবারকে দেখায় এবং ২৫ লাখ টাকা দাবি করে। স্বামীর প্রাণ রক্ষার্থে ভিকটিমের স্ত্রী মোছা. ফিরোজা খাতুন ধারদেনা করে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ২৩ লাখ টাকা পাঠান। টাকা পাওয়ার পর ২৮ এপ্রিল ভিকটিমকে লিবিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানায় গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে ৭/৮/১০(১) ধারায় একটি মামলা রুজু হলে (মামলা নং-০৬) ঘটনাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে পিবিআই কুষ্টিয়া জেলা শাখা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার হাতে নেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. রাকিবুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে উদ্ধার হওয়া লেনদেনের সূত্র ধরে অন্যতম মূল আসামি রাহাতকে গ্রেফতার করেন।
পিবিআই-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিকটিমের পরিবার যে ২৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে পাঠিয়েছিল, তার মধ্যে ১৬ লাখ টাকাই পাঠানো হয়েছিল কুষ্টিয়ার চৌড়হাসের বাসিন্দা রাহাতের নামে পরিচালিত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। শিক্ষার্থী রাহাত লেখাপড়ার পাশাপাশি অনলাইন ব্যাংকিংয়ের আড়ালে অবৈধ লেনদেনের সাথে জড়িত ছিলেন।
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে রাহাত জানান, দুবাই প্রবাসী সামিউল নামে এক ব্যক্তির কাছে তিনি নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি দেন। পরে দুবাই প্রবাসী সামিউল লিবিয়ায় অবস্থানরত ‘আমিন’ নামের আরেক সহযোগীকে সেই অ্যাকাউন্টের তথ্য পাঠায়। লিবিয়ায় অপহৃত প্রবাসীর পরিবারের দেওয়া টাকা রাহাতের অ্যাকাউন্টে আসার পর তিনি তা ক্যাশ আউট করে বিভিন্ন বিকাশ এজেন্ট এবং অন্যান্য ব্যাংক হিসাবে ছড়িয়ে দিতেন।
পিবিআই জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এই সংঘবদ্ধ জালিয়াতি ও অপহরণ চক্রের সাথে দেশ-বিদেশে জড়িত বাকি আসামিদের চিহ্নিত করতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

