কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের ব্যস্ততম ছয়রাস্তা মোড় এলাকায় এই সংঘাতের সূচনা হয়। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ভিপি নুরুল হক নুর ও রাশেদ খানকে নিয়ে এমপি মুফতি আমির হামজার সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের প্রতিবাদে সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয় জেলা গণঅধিকার পরিষদ। একই সময়ে এমপি মুফতি আমির হামজা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠান শেষ করে নিজ গাড়িযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। ছয়রাস্তা মোড় অতিক্রম করার সময় গণঅধিকার পরিষদের মিছিলের মুখোমুখি হলে উভয় পক্ষের সমর্থকরা বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে সহিংস সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
হামলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা অভিযোগ করেন, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক ও সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে তাঁর গাড়িবহরে হামলা চালায়। এতে তিনি নিজে আহত হন এবং তাঁর দলের অন্তত সাতজন কর্মী জখম হন।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে গণঅধিকার পরিষদের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ জানান, তাঁরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছিলেন। এ সময় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা কোনো উসকানি ছাড়াই তাঁদের সমাবেশে অতর্কিত হামলা চালায় এবং দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। এ হামলায় তিনি নিজেসহ তাঁদের দলের ৩ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
ঘটনার বিষয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


