মহম্মদপুর থেকে ফিরে বিশেষ প্রতিনিধি:
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ধোয়াইল বাজার এলাকায় পুলিশের অভিযান চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও চরম বাধার সৃষ্টি করে নাশকতা ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এক আসামিকে পুলিশের পিকআপ ভ্যান থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
গত বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) বিকালের দিকে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি সংঘটিত হয়।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা গেছে, ধোয়াইল বাজারের একটি বদ্ধ ঘরে বহুল আলোচিত ‘আহাদ-সুমন হত্যা মামলা’-র অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল আক্তার কাফুর উজ্জলের নেতৃত্বে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী গোপনে এক দলীয় বৈঠক করছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা পুলিশের একটি টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি অনুধাবন করে উপস্থিত অনেকেই দ্রুত সটে পড়লেও আসামি ইকবাল আক্তার কাফুর উজ্জলকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে পুলিশের পিকআপ ভ্যানে তোলার পর একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক এসে পুলিশের পথরোধ করে এবং বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগে প্রকাশ, স্থানীয় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিল্টনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে তার ভাই ইউসুফ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক রেজা লেনিন এবং সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন অতর্কিতভাবে পুলিশের সাথে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম আহমেদকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে আটককৃত আসামি উজ্জলকে পুলিশের গাড়ি থেকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নিয়ে চম্পট দেয় তারা।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম আহমেদ জানান, সরকারি কর্তব্যে বাধা প্রদান, পুলিশের ওপর হামলা এবং অপরাধী ছিনিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি পুলিশ।
উল্লেখ্য, স্থানীয়ভাবে জানা যায়—আসামি ছিনতাইয়ের এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতেও পুলিশের উপর হামলা, থানা থেকে আসামি ছাড়িয়ে নেওয়া, কর্মরত চিকিৎসককে হেনস্তা করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সাথে অসদাচরণের নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার এবং ছিনতাইকারীদের আইনের আওতায় আনতে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


