বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া
পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলের নতুন লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের নামে সরকারি ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে মো. শাহাব উদ্দিন নামে এক শ্রম পরিদর্শককে হাতেনাতে আটক করেছেন স্থানীয় হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) রাত ৯টার দিকে কুয়াকাটা প্যালেস ও হোটেল শৈবাল এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তিনটি হোটেল থেকে হাতিয়ে নেওয়া নগদ ৩৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকৃত টাকা ভুক্তভোগী হোটেল কর্তৃপক্ষের হাতে ফেরত দেন।
অভিযুক্ত মো. শাহাব উদ্দিন ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা। তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ে শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) হিসেবে গত চার বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় হোটেল মালিকদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও ওই কর্মকর্তা শুক্রবার দিনভর কুয়াকাটার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে গিয়ে লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা বিলম্ব করলে হোটেল কর্তৃপক্ষের নামে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। গত দুই বছর ধরে এই পরিদর্শক গোপনে বিভিন্ন হোটেল মালিকদের মামলার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী হোটেল সাউথ স্টারের পরিচালক মো. মিঠুন জানান, কয়েক দিন আগে ওই কর্মকর্তা ২৫ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। তা না দেওয়ায় হোটেলের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। শুক্রবার বিকেলে পুনরায় এসে ৩০ হাজার টাকা দিলে মামলা তুলে নেওয়া এবং হয়রানি না করার আশ্বাস দিলে তাঁরা টাকা দিতে বাধ্য হন।
একইভাবে হোটেল সি-লেভেলের মালিক মো. সবুজ জানান, কয়েক মাস আগে মামলার ভয় দেখিয়ে ৩৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর শুক্রবার আবারও এসে ৮ হাজার টাকা দাবি করেন। নগদ টাকা না থাকায় তাৎক্ষণিক ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বাকি ৩ হাজার টাকা রাতে বিকাশে দেওয়ার কথা হয়।
অন্যদিকে হোটেল রিয়াজ আবাসিক-এর মালিক জুবায়ের আহম্মেদ রিয়াজ খান বলেন, ওই কর্মকর্তা কৌশল করে বিভিন্ন হোটেলের কার্ড নিয়ে নোটিশ পাঠাতেন এবং ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাইসেন্স ফি বাবদ অবৈধভাবে আদায় করতেন।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাবুল ভূঁইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত ফি দিয়ে কিভাবে নিয়মমাফিক লাইসেন্স করা যায় তা নিয়ে একাধিকবার আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ওই কর্মকর্তা তা এড়িয়ে গিয়ে অবৈধ চাঁদা আদায় অব্যাহত রাখেন। তিনি অবিলম্বে ওই পরিদর্শককে কুয়াকাটা অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার এবং তাঁর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানান।
ঘটনার বিষয়ে বরিশাল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক নবীন হাওলাদার জানান, শাহাব উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে কুয়াকাটায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। তাঁদের সংস্থায় নগদ টাকা লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই এবং ক্যাটাগরি ভেদে সর্বোচ্চ নবায়ন ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা হতে পারে। টাকা আদায়ের বিষয়টি সত্য হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানান, সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই উদ্ধারকৃত টাকা ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত বিসিএস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে। ছবি প্রতিবেদক।
