স্বামীর হাতেই শ্বাসরোধে খুন গৃহবধূ তানিয়া : ঘাতক স্বামী জুলহাস গ্রেপ্তার,

স্বামীর হাতেই শ্বাসরোধে খুন গৃহবধূ তানিয়া : ঘাতক স্বামী জুলহাস গ্রেপ্তার,

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ তানিয়া হত্যা মামলার মূল রহস্য মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নারায়ণগঞ্জ জেলা। উক্ত ঘটনায় জড়িত নিহতের ঘাতক স্বামী মোঃ সোহাগ মিয়া জুলহাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মামলা ও পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল ১০:৩০ ঘটিকার দিকে আসামি সোহাগ মিয়া জুলহাস নিহত তানিয়ার খালা মোছাঃ নাছিমা আক্তারের বাসায় গিয়ে জানায় যে, তানিয়া গার্মেন্টসে গেছে। এরপর সে তানিয়ার ঘরের চাবি খালার হাতে দিয়ে দুপুর ১টার দিকে তা তানিয়ার কাছে পৌঁছে দিতে বলে চলে যায়। পরবর্তীতে খালা নাছিমা আক্তার তানিয়ার কর্মস্থলে গিয়ে জানতে পারেন যে, সে সেদিন গার্মেন্টসে কাজেই আসেনি। সন্দেহ হলে তিনি তানিয়ার ভাড়াবাসায় গিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তানিয়ার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় নিহতের খালা মোছাঃ নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-২৬, তারিখ-১০/০৮/২০২৬) দায়ের করেন। পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং এসআই (নিঃ) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে পিবিআইয়ের তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) ভোর আনুমানিক ০৪:৫০ ঘটিকায় ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডস্থ চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে আসামি সোহাগ মিয়া জুলহাসকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক চরম অভাব-অনটন নিয়ে তানিয়ার সঙ্গে সোহাগের বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহাগ তানিয়ার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যা সুনিশ্চিত করার পর সে তানিয়ার নাকে থাকা স্বর্ণের নাকফুল খুলে নেয় এবং ঘরে তালা মেরে চাবি খালার কাছে বুঝিয়ে দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামি সোহাগ বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। এ ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পিবিআইয়ের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *