সাবেক এমপি আ.লীগ নেতার গুদামে সরকারী ৫ হাজার বস্তা গম !

সাবেক এমপি আ.লীগ নেতার গুদামে সরকারী ৫ হাজার বস্তা গম !

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শেরশাহ এলাকায় বনফুল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কিশোয়ানের একটি গুদামে সরকারি সিলযুক্ত অন্তত ৫ হাজার বস্তা গম ঘিরিয়া চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বস্তাগুলোর গায়ে স্পষ্টাক্ষরে ‘খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য’ কথাটি উল্লেখ রয়েছে। আলোচিত এই গুদামটি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও বনফুল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মোতালেবের মালিকানাধীন বলে খবর পাওয়া গেছে।

সরকারি উদ্দেশ্যে রক্ষিত বা পরিবহনের জন্য বরাদ্দকৃত এই বিপুল পরিমাণ গম কীভাবে একটি বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গুদামে পৌঁছাল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ পরিদর্শনের সময় গুদাম কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে, তাঁরা সরকারি বিভিন্ন নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই গম সংগ্রহ করেছেন এবং এর সপক্ষে কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। তবে সেসব নথিপত্র আদৌ বৈধ কিংবা হালনাগাদ কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অবৈধ মজুদদারির খবরের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত খাদ্য অধিদপ্তর কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। বর্তমানে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গুদাম কর্তৃপক্ষের প্রদর্শিত কাগজপত্রগুলোর আইনি ও প্রশাসনিক সত্যতা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে খাদ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে সরকারি চালানের গম পরিবহনের প্রচলিত নিয়ম ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পতেঙ্গা সাইলোর তত্ত্বাবধায়ক রাকিবুল হাসান জানান, চট্টগ্রাম বন্দর বা পতেঙ্গা সাইলো থেকে সরকারি গমের চালান ছাড়ার সময় নির্দিষ্ট ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে অফিশিয়াল চালানপত্র হস্তান্তর করা হয়। চালানের নিয়ম অনুযায়ী সরকারি নির্ধারিত গুদাম ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব গুদামে তা খালাস করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। নির্ধারিত গন্তব্যের সরকারি গুদাম কর্মকর্তা গম বুঝে পেয়ে চালানে স্বাক্ষর করার পরই পরিবহন প্রক্রিয়া সম্পন্ন গণ্য হয়।

পরিবহনকালে মাঝপথে কোনো গম অবৈধভাবে অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলা হলে কিংবা ভুয়া চালানের আশ্রয় নেওয়া হলে নথিপত্র যাচাই ছাড়া তা ধরা কঠিন হতে পারে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। বায়েজিদে উদ্ধারকৃত গমের প্রকৃত উৎস, নিলামের দাবির সত্যতা ও সরকারি গন্তব্যে সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা কালোবাজারি হয়েছে কি না, তা প্রশাসনের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আসার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।  ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *