স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের একটি সাধারণ আবাসিক বাড়ির ভেতরে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি না মেনে বিএসটিআই-এর অনুমোদন ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বিষাক্ত কেমিক্যাল প্রস্তুতকারী ভুয়া কারখানা। ‘ভূঁইয়া ভিলা’ নামের ওই বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিএসটিআই-এর ভুয়া মোড়ক ব্যবহার করে ‘এন সল’ ব্র্যান্ডসহ নামীদামি ভিক্সল ও হারপিক ধাঁচের টয়লেট সামগ্রী তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার নাভারন এলাকার বাসিন্দা নুরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি সুলতানপুর গ্রামের ফরাদ মেম্বারের বাড়ির সামনে জমি কিনে ‘ভূঁইয়া ভিলা’ তৈরি করেন। উক্ত আবাসিক ভবনের ভেতরেই তিনি গড়ে তুলেছেন এ কারখানা।
জানা গেছে, একটি মানসম্মত ও বৈধ কেমিক্যাল প্রসাধন বা টয়লেট ক্লিনার কারখানা পরিচালনার জন্য বেশ কিছু অত্যাবশ্যকীয় সরকারি অনুমোদন ও কারিগরি অবকাঠামো থাকা বাধ্যতামূলক। যার মধ্যে রয়েছে-বিএসটিআই (BSTI) সনদ ও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ সার্টিফিকেট: উৎপাদিত পণ্যের ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা পরীক্ষার অনুমোদন,বিস্ফোরক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র: কেমিক্যাল সংরক্ষণ ও পরিবেশদূষণ রোধের অবকাঠামোগত সম্মতি,রসায়নবিদ (কেমিস্ট)/ফার্মাসিস্ট ও বিশেষজ্ঞ কারিগর: সঠিক রাসায়নিক মিশ্রণ নিশ্চিত করার দক্ষ জনবল। মানসম্মত গবেষণাগার (ল্যাবরেটরি): প্রতি ব্যাচ তৈরির পর কেমিক্যালের এসিডের মাত্রা পরীক্ষার ল্যাব,ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স: অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ব্যবসা পরিচালনা সনদ।
বিজ্ঞাপন
সুলতানপুরের কারখানার বাস্তব চিত্র:
অভিযোগ রয়েছে, নুরুজ্জামানের এই অবৈধ কারখানায় উপরোক্ত শর্তের একটি নিয়মও মানা হচ্ছে না। সেখানে নেই কোনো অনুমোদিত ল্যাবরেটরি, নেই কোনো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কেমিস্ট কিংবা ফার্মাসিস্ট। কোনো রকম নিরাপদ অবকাঠামো ছাড়াই গ্রামের দরিদ্র ও অশিক্ষিত নারী এবং শিশুদের দিয়ে বিপদজনক রাসায়নিক দ্রবণ তৈরি করানো হচ্ছে। নুরুজ্জামানের নিজস্ব মৌখিক নির্দেশনায় কোনো প্রকার সুরক্ষা সরঞ্জাম (গ্লাভস, মাস্ক) ছাড়াই এসব নারী ও শিশুরা খালি হাতে মারাত্মক এসিড ও কেমিক্যাল মিশিয়ে প্যাকেজিংয়ের কাজ করছে। এতে করে এসব কারিগরদের জীবন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে।
প্রতিদিন হাজার হাজার পিস নিম্নমানের ও বিষাক্ত ‘এন সল’ টাইলস ক্লিনার ও টয়লেট ক্লিনার বাজারজাত করা হচ্ছে যশোরসহ আশপাশের জেলাগুলোর বিপণিবিতানে। এসিড ও কেমিক্যালের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধে আশপাশের বাড়িঘরের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে বারবার আপত্তি জানালেও স্থানীয় চিহ্নিত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথে সখ্য থাকায় নুরুজ্জামান কাউকে তোয়াক্কা করছেন না। ফলে ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না সাধারণ গ্রামবাসী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুজ্জামানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি দাবি করেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে লিখিত অনুমতি নিয়েই তিনি এ কারখানা গড়ে তুলেছেন। তবে পরবর্তীতে সাংবাদিকরা তাঁর কাছে পণ্য উৎপাদনের মূল ভিত্তি বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদন ও ল্যাব পরীক্ষার কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও তদারকি দপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরোক্ষ সহায়তায় এবং নজরদারির অভাবে বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ ও ক্ষতিকর ব্যবসা চালু রয়েছে।
(সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের এবং তদারকি দপ্তরের বক্তব্যসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন পরবর্তীতে আসছে…)ছবি সংগৃহীত।
