স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে জাল তালাকনামা তৈরি করে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পাল্টা চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দায়েরের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সাইফুজ্জামান সজিব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে এসব অভিযোগ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে সাইফুজ্জামান সজিব জানান, চাকরির সুবাদে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থানকালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহ দেখা দিলে অভিযুক্ত আইনজীবী জুয়েল মুন্সী বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি ঈশ্বরদীর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতার কথা বলে কাবিননামা ও খোরপোষের ঝামেলা মেটাতে সজিবের পরিবারের কাছে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। উপায়ান্তর না পেয়ে সজিবের পরিবার নিজেদের ধানক্ষেত বন্ধক রেখে ওই টাকা পরিশোধ করেন।
বিজ্ঞাপন
সজিবের অভিযোগ, টাকা নেওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্ত্রী বা শ্বশুরবাড়ির কারও সাথে মুখোমুখি কথা না বলেই অ্যাডভোকেট জুয়েল মুন্সী তাঁকে একটি তালাকনামা হাতে তুলে দেন। উক্ত তালাকনামাটি ডাকযোগে স্ত্রীর ঠিকানায় পাঠানো হলে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে সেটি সম্পূর্ণ জাল ও ভুয়া বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সজিবের স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেন এবং সজিবের কর্মস্থলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান, যা তাঁর চাকরিকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।
ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিষয়টি সুরাহার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিএনপি নেতাদের সহযোগিতা নেওয়া হয়। ইচ্ছালী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফ বিশ্বাস, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সহিদ, ছাত্তার ও জালাল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুন্না এবং কৃষক দল নেতা আব্দুল হালিমসহ কয়েকজন আইনজীবী জুয়েল মুন্সীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর বাসায় সালিসি বৈঠকে বসেন। তবে বৈঠকে জুয়েল টাকা নেওয়ার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেন।
সজিব আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে জালিয়াতির বিষয়টি ঢাকতে জুয়েলের স্ত্রী চতুরতার সাথে সালিসে উপস্থিত ব্যক্তিদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এরপর সজিব, তাঁর বাবা এবং বিএনপি নেতা ছাত্তার ও আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চাঁদাবাজির মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। একইসাথে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁদের চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, কেবল তাঁর সাথেই নয়; অ্যাডভোকেট জুয়েল মুন্সীর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও রাজাপুরের লিটন, কারিগরপাড়ার গফুর, হানিফ ও পাঁচবাড়িয়ার আব্দুর রহিমসহ এলাকার একাধিক সাধারণ মানুষের সঙ্গে আইনগত সহায়তার নামে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
সজিব জানান, শেষ পর্যন্ত চাকরি রক্ষা ও আইনি ঝামেলা মিটাতে তাঁর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবা অবশিষ্ট সামান্য জমিটুকু বিক্রি করে আরও ৪ লাখ টাকা যোগাড় করেন। পরে সেই টাকা স্ত্রীকে বুঝিয়ে দিয়ে প্রকৃত আইনি প্রক্রিয়ায় তালাক সম্পন্ন করেন। জুয়েল মুন্সীর দেওয়া ভুয়া তালাকনামা ও প্রতারণার যাবতীয় প্রমাণপত্র তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে সজিবের বাবা ইতোমধ্যে আদালতে আইনজীবীর বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন এবং যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে সাইফুজ্জামান সজিব ও তাঁর পরিবারের সদস্যগণ উক্ত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত আইনজীবীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ছবি সংগৃহীত।
