স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পৃথক ঘটনায় রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার অভিযোগে বিতর্কিত ‘পপুলার মেডিকেল সার্ভিস অ্যান্ড হসপিটাল’-এর সক্রিয় দালালসহ দালাল চক্রের দুই সদস্য এবং এক নারী রোগীর ব্যাগ থেকে ১২ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে অপর এক নারীকে আটক করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে তাঁদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
আটককৃত দালালদের পরিচয়: যশোর শহরের ঘোপ সেন্টার রোড এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে মারুফ (৫৫) এবং বিরামপুর নোয়াপাড়া এলাকার মৃত আমজাদ মোল্লার ছেলে আবিদ হাসান (৫৫)। আটককৃতদের মধ্যে মারুফ হাসপাতালের উল্টো পাশে অবস্থিত দালালনির্ভর প্রতিষ্ঠান ‘পপুলার মেডিকেল সার্ভিস অ্যান্ড হসপিটাল’-এর তালিকাভুক্ত ও সক্রিয় দালাল হিসেবে পরিচিত। পপুলার ছাড়াও সে চুক্তিতে আরও কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত কমিশন বা পারসেন্টেজ বাণিজ্যের বিনিময়ে সরকারি হাসপাতালের রোগী সাপ্লাই দিয়ে আসছিল।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে সিসিইউ (করোনারি কেয়ার ইউনিট) ভবনের সামনে রোগী ভাগানোর সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য জুয়েল রানা এই দুই দালালকে আটক করেন। তারা হাসপাতালে আসা অসহায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার নামে প্রলোভন দেখিয়ে পপুলার মেডিকেলসহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতো। ইতিপূর্বেও তাদের একাধিকবার সতর্ক করা সত্ত্বেও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
এদিকে একই দিন সকাল ১১টার দিকে হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষের সামনে নওদা গ্রামের জামাল হাওলাদারের স্ত্রী মোছা. শেখা (৩০)-এর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে কৌশলে ১২ হাজার টাকা চুরি করার সময় শিল্পী (৩৫) নামে এক নারী চোরকে হাতেনাতে আটক করে জনতা। আটক শিল্পী জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার পূর্ব ব্যাপারীপাড়া এলাকার হাসিবুরের স্ত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্য জুয়েল রানা তাকেও হেফাজতে নেন।
আটককৃত তিনজনকেই পরবর্তী আইনি নিষ্পত্তির জন্য যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, দালালসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

