শহিদ জয় :
যশোরের ঝিকরগাছায় পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজা জুয়েল মোড়লকে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় তাঁর মেজ চাচা আব্দুল মান্নান মান্নুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাজার পাশাপাশি তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
একই রায়ে ঘাতক মান্নানের ছেলে আলম হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে অতিরিক্ত আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বেগম মাহমুদা খাতুন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট নুর-ই আলম পান্নু।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছা উপজেলার হাড়িয়াদেয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা আসামি আব্দুল মান্নান মান্নানের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই হাকিম মোড়লের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত চরম বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর সকালে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। সংঘাত চলাকালে মান্নান পাশে থাকা মেহগনি গাছের একটি ভারী ডাল দিয়ে ছোট ভাই হাকিমকে আঘাত করেন। এ সময় বাবাকে বাঁচাতে এবং মারামারি ঠেকাতে হাকিমের বড় ছেলে জুয়েল মোড়ল এগিয়ে এলে চাচা মান্নান কাঠের ডালটি দিয়ে সজোরে জুয়েলের মাথায় আঘাত করেন। পরবর্তীতে মান্নানের ছেলে আলমসহ সঙ্গীরা জুয়েলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে মারাত্মক জখম করে।
গুরুতর আহত জুয়েলকে প্রথমে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাঁকে দ্রুত ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাত পৌনে আটটার দিকে তাঁর করুণ মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহত জুয়েলের পিতা হাকিম মোড়ল বাদী হয়ে ভাই মান্নু ও ভাতিজা আলমসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঝিকরগাছা থানার এসআই সুমন বিশ্বাস ২০২২ সালের ৩১ মে তদন্তে প্রাপ্ত ৮ আসামির বিরুদ্ধেই আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত আসামি আব্দুল মান্নান মান্নুকে যাবজ্জীবন এবং তাঁর ছেলে আলম হোসেনকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর ৬ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। ছবি সংগৃহীত।


