স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
জীবনসংগ্রামের পুরো উপার্জনের সম্বলটুকু চোখের সামনে ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ার এক হৃদয়বিদারক চিত্র দেখা গেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে। দীর্ঘ পাঁচ-ছয় বছরের হাড়ভাঙা খাটুনিতে জমানো নগদ ২২ লাখ টাকা মুহূর্তের আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে এক সাধারণ মৎস্যজীবীর।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী মোক্তার উদ্দিন মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। ছোট ছেলে সাইফুল ইসলামকে কর্মসংস্থানের জন্য মালয়েশিয়া পাঠানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রতিদিনের অর্জিত আয় থেকে কিছু কিছু টাকা আলাদা করে রাখতেন তিনি। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণ ও প্রবাসে থাকা বড় ছেলের পাঠানো অর্থসহ প্রায় ২২ লাখ টাকা তিনি উপজেলা সদরে গিয়ে ব্যাংকে না রেখে ঘরের চালের ড্রামে নিরাপদে লুকিয়ে রেখেছিলেন।
বিজ্ঞাপন
গত মঙ্গলবার সকালে লোকালয়ের এক প্রতিবেশীর বসতঘর থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধ্বংসাত্মক আগুন আশপাশের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে অগ্নিনির্বাপক দলের যানবাহন ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। অগত্যা স্থানীয় অধিবাসীরা দীর্ঘ দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে মোক্তার উদ্দিনের পাঁচটি বসতঘর ও চালের ড্রামে রক্ষিত জীবনের পুরো সঞ্চয় ভস্মীভূত হয়।
পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে মাত্র চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার আংশিক ভস্মীভূত নোট উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো পরিবার নিয়ে বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তা ও দিশেহারা অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ওই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক-মৎস্যজীবী।
উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় শুকনো খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত টাকার নোটগুলো ব্যাংকিং নিয়মে ভাঙিয়ে সচল করে দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ছবি সংগৃহীত।

