রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কমিটিতে পদায়নের পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন না থাকা, সাংগঠনিকভাবে যোগ্য মূল্যায়ন না পাওয়া এবং নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দলটির জ্যেষ্ঠ সদস্য সচিবের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মো. সাইমুন আলী পিন্টু।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাইমুন আলী পিন্টু তুলে ধরেন যে, নবগঠিত কোটচাঁদপুর উপজেলা এনসিপির কমিটিতে তাঁকে জ্যেষ্ঠ সদস্য সচিবের দায়িত্বে রাখা হলেও, কমিটি ঘোষণার পূর্বে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যে আলোচনা, বোঝাপড়া এবং প্রতিশ্রুতি হয়েছিল তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
বিজ্ঞাপন
তিনি সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, কোটচাঁদপুর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক হৃদয় আহমেদ এবং ঝিনাইদহ জেলা কমিটির একটি বিশেষ অংশের কর্মকাণ্ডে তিনি গভীরভাবে হতাশ হয়েছেন। দলীয় রীতিনীতি ও সাংগঠনিক পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় না থাকায় তিনি নিজের আত্মসম্মান ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি রক্ষা করতেই দল ছাড়ার এই কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে তিনি মূলত তিনটি বিষয়কে চিহ্নিত করেন। এর মধ্যে রয়েছে কমিটি পূর্ববর্তী অঙ্গীকার ও প্রত্যাশার অমিল, সাংগঠনিকভাবে ন্যায্য মূল্যায়নের অভাব এবং স্থানীয় ও জেলা নেতৃত্বের রহস্যজনক ভূমিকা। এসব কারণেই উক্ত কমিটিতে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়াকে তিনি অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, এই পদত্যাগপত্রের মধ্য দিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা এনসিপির সাথে তাঁর আর কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বা সাংগঠনিক সম্পর্ক বহাল থাকছে না।
এদিকে, পদত্যাগী এই নেতার উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির কোটচাঁদপুর উপজেলা আহ্বায়ক হৃদয় আহমেদ কিংবা ঝিনাইদহ জেলা কমিটির দায়িত্বশীল কোনো নেতার তাৎক্ষণিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া ও অসন্তোষের পেছনের মূল প্রেক্ষাপট নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে গুঞ্জন ও চাঞ্চল্য অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
