কোটচাঁদপুরে যুবলীগ বানিয়ে জামায়াত নেতা আটক : দায়িত্বহীনতায় বিতর্কে থানা পুলিশ

কোটচাঁদপুরে যুবলীগ বানিয়ে জামায়াত নেতা আটক : দায়িত্বহীনতায় বিতর্কে থানা পুলিশ

রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি :

এক পক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যুবলীগ নেতা হিসেবে আটক, কিন্তু পুলিশের হেফাজতে যাওয়ার পর অপর পক্ষের জমা দেওয়া নথিপত্রে প্রমাণ মিলল তিনি জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল নেতা। শেষ পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টার নাটকীয়তা, তথ্য যাচাই ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর জামায়াত নেতাদের জিম্মায় মুক্ত হলেন হায়দার আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তি।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার পশ্চিমপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে হায়দার আলীকে আটক করে তালসার পুলিশ ফাঁড়ির আভিযানিক দল। তিনি ওই গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশের দাপ্তরিক ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় এক সোর্সের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে হায়দার আলীকে কুশনা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চিহ্নিত করে আটক করা হয়েছিল। তবে এই আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা দলীয় নথিপত্র নিয়ে থানায় হাজির হন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কোটচাঁদপুর পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম জানান, হায়দার আলী ২০২২ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যক্রমের সাথে সরাসরি যুক্ত। তিনি তালসার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া ইউনিট জামায়াতের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। থানায় উপস্থিতি হয়ে পুলিশকে হায়দার আলীর দলীয় আনুগত্যের পক্ষে বায়তুলমাল বা ইয়ানতের রসিদ এবং বিভিন্ন সভায় তাঁর উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণাদি দেখানো হয়। পরবর্তীতে নথিপত্র যাচাই শেষে তাঁকে কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মাস্টার মো. আজিজুর রহমানের জিম্মায় আনুষ্ঠানিকভাবে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

অন্যদিকে, হায়দার আলীকে যে যুবলীগের ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে পুলিশকে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, সেই দাবির পক্ষে কোনো পক্ষই বা তথ্যদাতা কোনো ন্যূনতম নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি।

মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে পুলিশে আটক করানোর ঘটনায় পুরো কোটচাঁদপুরে তীব্র তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দায়িত্বশীলরা।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, সোর্সের দেওয়া মিথ্যা ও অসত্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হায়দার আলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাইয়ের জন্য আটক করা হয়েছিল। জামায়াত নেতারা সঠিক ও নির্ভরযোগ্য কাগজপত্র দেখানোর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শক্রমে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

একই সাথে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যে বা যারা ভিত্তিহীন ও ভুল তথ্য সরবরাহ করে পুলিশ প্রশাসনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *