পানিসম্পদ মন্ত্রীর ছবির ব্যানার টাঙিয়ে জমি দখল !

পানিসম্পদ মন্ত্রীর ছবির ব্যানার টাঙিয়ে জমি দখল !

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরীর ছবি সংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে জমি দখল ও প্রতারণার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে সানভিউ প্রপার্টিজের মালিক মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে। কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আকন লিখিত বক্তব্যে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আকন বলেন, সানভিউ প্রপার্টিজের মালিক মোশাররফ হোসেন একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু, প্রতারক ও সুযোগসন্ধানী মামলাবাজ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি নিজেকে দলীয় নেতা পরিচয় দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে গেছেন। গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি কৌশল বদলে পানিসম্পদ মন্ত্রীর সাথে ছবি টাঙিয়ে পুনরায় নতুন করে প্রতারণা শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিস্তারিত তুলে ধরে বলা হয়, লতাচাপলী মৌজার এসএ ৬৬২ নম্বর খতিয়ানের বিভিন্ন দাগের অংশ থেকে ১৯৯৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর তারিখের সাব-কবলা দলিল মূলে ভুলে ০.৭৭ একর জমির মালিক হন সৈয়দ মোসারেফ, জি এম ফারুক, মোঃ ইউনুছ মিয়া ও মোসাম্মাৎ জাহানারা ইসলাম। বর্তমান বিএস জরিপে কুয়াকাটা মৌজার বিএস ৭৭৭ নম্বর খতিয়ানের ৩৩৮৬ নম্বর দাগের ১ শত অংশে ০.৫০ একর জমি রেকর্ডভুক্ত হয়। উক্ত জমির মূল মালিকগণ গত ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে জমি দেখাশোনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জাহাঙ্গীর আকনকে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিএস রেকর্ডীয় মালিক মরহুম জি এম ফারুকের ওয়ারিশ মোঃ রেজাউল করিম ও মোঃ রেদওয়ানুল করিম ০.৬৯৯৫ একর জমি জাহাঙ্গীর আকনের ভাই মোঃ রিপনের নিকট বায়না দলিল মূলে হস্তান্তর করেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, এই জমিকে কেন্দ্র করে মোশাররফ হোসেন তাকে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পটুয়াখালী ও ঢাকার বিভিন্ন আদালতে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছেন।

ঘটনার বিবরণী থেকে আরো জানা যায়, উক্ত জমি সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি মামলায় মোঃ শাহজাহান একতরফা সোলে ডিক্রিমূলে রায় পেয়ে পরবর্তীতে তা সানভিউ প্রপার্টিজের মালিক মোশাররফ হোসেনের নিকট হস্তান্তর করেন। তবে মূল মালিক মুন্সী আঃ গফুর আমান উল্লাহ ভূঁইয়া সোলে ডিক্রির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত শাহজাহানের ডিক্রি রদের রায় দেন। ফলে সানভিউ প্রপার্টিজের এমডির দাতা শাহজাহানের মালিকানা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে এ নিয়ে জেলা জজ আদালতে দায়ের করা মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

জাহাঙ্গীর আকন দাবি করেন, ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের জমি অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন মোশাররফ। প্রকৃত মালিকরা জমি দখলে যেতে চাইলে প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মামলার হাজিরা দিতে গেলে আদালত চত্বরে তাকে জিম্মি করে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উন্মোচিত হয় যে, লতাচাপলী মৌজার এসএ খতিয়ানের ০.৩৬৮০ একর জমি মোশাররফ সহ অপর পাঁচজন এক কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করলেও বাকি পাঁচজনের পাওনা টাকা মোশাররফ আত্মসাৎ করেন। এই বিষয়ে সানভিউ প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল হক অবগত নন। এছাড়া রাখাইন মার্কেটের পূর্ব পাশে অবস্থিত বিএস ৭৭৭ নম্বর খতিয়ানের জমি আবেদ আলী নামের এক ব্যক্তির কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে থাকা ছবির সাইনবোর্ড দেখিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় মামলাবাজ মোশাররফের হাত থেকে জমি উদ্ধার এবং হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সানভিউ প্রপার্টিজের মালিক মোশাররফ হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ছবি প্রতিবেদক।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *