পরকীয়ার জেরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে রাজমিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যা!

পরকীয়ার জেরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে রাজমিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যা!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

রংপুরের হারাগাছে চাঞ্চল্যকর রাজমিস্ত্রি মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে আবু সিদ্দিক (নিহত) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিবিআই রংপুরের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সাজুল মিয়া ওরফে সাজু (২৮) এবং মো. হাফিজুল ইসলাম (২০)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে উভয় আসামি বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯:৩৩ ঘটিকায় রংপুর জেলার হারাগাছ থানাধীন চর চতুরা কলমদারপাড়া থেকে মিলনবাজারগামী কাঁচা রাস্তার ধানক্ষেতের পশ্চিম পাশ থেকে রাজমিস্ত্রি আবু সিদ্দিকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মুখমণ্ডল, মাথা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের গভীর জখমের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হারাগাছ থানায় ৩০২/৩৪ পেনাল কোড ধারায় মামলা (নং-১৮, তারিখ-২৪/০৮/২০২৬) দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই রংপুর স্ব-উদ্যোগে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের এসআই (নিঃ) নুরে আলম সিদ্দিক।

তদন্তকারী কর্মকর্তা উন্নত গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নিজ বসতবাড়ি থেকে অভিযুক্ত সাজুল মিয়া ও হাফিজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন। আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত আবু সিদ্দিকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মেমোরি কার্ড ও টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়ালটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে কেয়ারের পুকুরপাড় থেকে উদ্ধার করে পিবিআই।

পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, নিহত আবু সিদ্দিক ও প্রধান আসামি সাজু পূর্বপরিচিত এবং পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করতেন। সাজুর স্ত্রী মুন্নী বেগমের সঙ্গে নিহতের পরকীয়া সম্পর্কের জেরে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই রেশ ধরে সাজু ও হাফিজুল মিলে আবু সিদ্দিককে হত্যার পরিকল্পনা করে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ঘটনাস্থলের পাশে চাইনিজ কুড়াল লুকিয়ে রেখে রাত প্রায় ৮:৫৫ ঘটিকায় সাজু ফোন করে কৌশলে আবু সিদ্দিককে সেখানে ডেকে আনে। পরে সাজু চাইনিজ কুড়াল দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পিবিআইয়ের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *